মেয়র পদে মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা বিজয়ী

নিউজ ডেস্ক:  রংপুর সিটি কর্পোরেশনের (আরসিসি) নির্বাচনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা দ্বিতীয় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুকে ৯৮ হাজার ৮৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন।

আরপিসিসি নির্বাচন-২০১৭ এর রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর পুলিশ হল অডিটোরিয়ামে স্থাপিত জনাকীর্ণ কন্ট্রোল রুমে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে সবকটির ভোটগণনা শেষে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা তার দলীয় প্রতীক ’লাঙ্গল’ নিয়ে নির্বাচন করে এক লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু দলীয় প্রতীক ’নৌকা’ নিয়ে নির্বাচন করে পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কাউসার জামান বাবলা দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করে ৩৫ হাজার ১৩৬ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন।

এছাড়াও, বাসদ মনোনীত মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দিতাকারী প্রার্থী আবদুল কুদ্দুস ’মই’ প্রতীকে পেয়েছেন এক হাজার ২৬২ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু ’হাতপাখা’ প্রতীকে পেয়েছেন ২৪ হাজার ছয় ভোট, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত প্রার্থী সেলিম আখতার ’আম’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮১১ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ ’হাতি’ প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করে দুই হাজার ৩১৯ ভোট পেয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, আরপিসিসি নির্বাচনে মোট ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৯৪ জন ভোটারের মধ্যে দুই লাখ ৯২ হাজার ৭২৩ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। ভোট প্রদানের শতকরা হার ৭৪ দশমিক ২৯ ভাগ।

ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নির্বাচন উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেছে এবং তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘রংপুর সিটি কর্পোরেশনকে পরিকল্পনা অনুযায়ী অত্যাধুনিক ও সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমি নিয়োজিত থাকব। নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত ও সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রদান করবো।’

একই সাথে আরপিসিসি নির্বাচনে ৩৩টি ওয়ার্ডে ৩৩ জন কাউন্সিলর ও ১১টি সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১১ জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।
আরসিসি নির্বাচনে মোট ২৮৩ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে সাত জন মেয়র পদে, ৩৩টি জেনারেল কাউন্সিলর পদে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬৫ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আরসিসি নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।