দেশসেরা ৩০০ শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে সম্মাননা দিল এটুআই

নিউজ ডেস্ক: দেশসেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতা শিক্ষক ও সেরা নেতৃত্ব সম্পন্ন শিক্ষা কর্মকর্তাদের জাতীয়ভাবে সম্মাননা প্রদানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম আয়োজিত শিক্ষক সম্মেলন-২০১৭ এর সমাপ্তি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয়েছে। মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষক সম্মেলন-২০১৭ এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি কক্সবাজারের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আয়োজন করেছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা সচিব মোঃ আসিফ-উজ-জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ আব্দুর রউফ; মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন আইসিটি- II এর প্রকল্প পরিচালক মোঃ জসিম উদ্দিন; কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার।

দুই দিনব্যাপী শিক্ষক সম্মেলন-২০১৭ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মাঠ পর্যায়সহ দেশসেরা শিক্ষকদের কাজের স্বীকৃতি ও সন্মাননা প্রদানের মাধ্যমে মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জনে আইসিটির ব্যবহার জোরদারকরণের লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরীতে উদ্বুদ্ধ করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করতে, মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্টের মাধ্যমে আনন্দদায়ক ও কার্যকর শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে সাহায্য করা। এটুআই প্রোগ্রাম সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোর সহযোগিতায় সারাদেশে ‘মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করেছে যার মাধ্যমে সারাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়। শিক্ষক সম্মেলন-২০১৭- এ মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতায় বিজয়ী এবং শিক্ষক বাতায়নে নির্বাচিত সপ্তাহের সেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাসহ প্রায় ২০০ জন শিক্ষক এবং ১০০ জন শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। সারা দেশ থেকে বাছাইকৃত ৩০০ জনের মধ্যে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতা ২০১৭ জাতীয় পর্যায়ে মনোনীত ১০ জনকে ল্যাপটপ এবং বাকি ২৫ জনকে স্মার্টফোন প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষায় নেতৃত্বগুণের উপর ভিত্তি করে হাইস্কুল এবং প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ, পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, পিটিআই সুপার, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ ৮২ জনকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। সপ্তাহের সেরা মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট নির্মাতাসহ প্রায় ১৩৮ জন শিক্ষককে ক্রেস্ট এবং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজনের শেষদিনে শিক্ষকদের অবহতি করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২ টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারের বিষয়গুলো হলো- শিক্ষায় নেতৃত্ব এবং এসডিজি ৪: গুণগত শিক্ষায়-শিক্ষকদের ভূমিকা ও দায়িত্ব।

উল্লেখ্য, এটুআই এর কারিগরি সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় সারাদেশে প্রায় ২৩ হাজার ৩শ ৩০-টিরও বেশি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এবং ৮হাজার৯শ২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। সকল শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের উদ্দেশ্যে অনলাইন প্লাটফর্ম ‘শিক্ষক বাতায়ন’ তৈরি করা হয়েছে যার মাধ্যমে ২,৭০,০০০-এর অধিক শিক্ষক তাদের মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট আপলোড এবং ডাউনলোড করার পাশাপাশি ব্লগ ও কমেন্টের মাধ্যমে তাদের চিন্তাভাবনা ও মতামত বিনিময় করছেন। শিক্ষায় আইসিটি উদ্যোগগুলোকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় ‘আইসিটি ফর এডুকেশন’ এম্বাসেডর নির্বাচন করা হয়েছে। ‘শিখুন- যখন যেখানে ইচ্ছে’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারদের নিয়ে বাংলা ভাষায় সবচেয়ে বড় ই-লার্নিং প্লাটফর্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে এটুআই প্রোগ্রাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে এটুআই প্রোগ্রামের ই-লার্নিং স্পেশালিস্ট প্রফেসর ফারুক আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি স্পেশালিস্ট (এডুকেশনাল ইনভেশন) আফজাল হোসেন সারওয়ার, এটুআই প্রোগ্রাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।