বিজয়ের নতুন প্রাণে ওরা

ত্রিশাল প্রতিনিধি: নয় শিক্ষার্থী গল্পে গল্পে প্ল্যানিং আর ২দিনের প্রস্তুতিতে ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নূল আবেদিন জাদুঘরের সামনে মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের উপর প্রশ্ন করে শিশুদের হাতে লাল সবুজের পতাকা তুলে দেওয়ার মত ব্যতিক্রমী আয়োজন করেন তারা।

দেশের ইতিহাস যেনো বিকৃত না হয়। নতুন প্রজন্ম যেনো দেশের সঠিক ইতিহাস জেনে বড় হয়। দেশকে ভালোবাসে। দেশের ইতিহাসের প্রতি যাতে আগ্রহ তৈরি হয় এজন্য প্রায় ৮০জন শিশুর মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তারা। শুধুমাত্র একটি লাল সবুজ পতাকা দ্বারা। তাদের প্ল্যান ছিল ৩-১২ বছরের শিশুদের মাঝে পতাকা বিতরণ করবো আর তাদের গালটা তাদের ইচ্ছে মতো রাঙিয়ে দিবে। তবে ফ্রিতে নয়, তাদের মাঝে আমাদের দেশ নিয়ে কিছু সহজ সহজ প্রশ্ন করার মাধ্যমে। বিজয় দিবস কবে, ২৬শে মার্চ কি?

মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জন্য কি করেছেন? আর যারা সঠিক উত্তর দিতে পারেনি তাদেরকে সঠিক তথ্য দিয়ে তাদের হাতেও তুলে দেয়া হয়েছে একটি করে লাল সবুজের পতাকা। ওই শিক্ষার্থীদের ধারনা ফ্রি জিনিসের কোন মূল্য আমাদের মাঝে নেই। কষ্টে অর্জন করে নেওয়ার আনন্দটা বেশি। তাদের আরেকটি উদ্দেশ্য ছিলো বিভেদটা দূর করা। সকল শ্রেণির পেশার সকলকে একসাথে নিয়ে বৈষম্যকে দূরে ঠেলে দিতে তাদের প্রথম ইভেন্ট “বিজয়ের রঙে হাসিখুশি শিশু”।

সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত চলে ওই আয়োজন। দিনব্যাপি এআয়োজনে শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন অনেকের অনুপ্রেরণা।

ব্যতিক্রমী ওই আয়োজনের নয় শিক্ষার্থীরা হলো আনন্দ মোহন কলেজের আকিফ বিন সাঈদ, জাহিদ হাসান রাকিব, ঐশিক ক্লোর, কেবি কলেজের শিহাব আব্দুল্লাহ অহি, ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের লিজা, সৈয়দ নজরুল ইসলামের কলেজের হাসিব আল ফাহাদ, আদিবা ইসলাম, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের নাফিসা তাবাস্সুম মিম ও কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিদ হাসান আলিফ।

আকিফ বিন সাঈদ জানান, আমরা যাদেরকে উপহার গুলো দিতে পেরেছি তাদের অভিভাবকের কাছে আমাদের একমাত্র চাওয়া তারা যেনো তাদের সন্তানকে দেশের সম্পর্কে সঠিক ইতিহাসের জ্ঞান প্রদান করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের আত্নত্যাগের গল্প গর্বের সাথে তাদের শোনান। যাতে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পবিত্র ইতিহাসটি বিকৃত না হয়।

দেশের নতুন সূর্য সন্তানেরা যেনো নিজের দেশ নিয়ে গর্ব করে। আমরা কৃতজ্ঞ সে সকল অভিভাবকের প্রতি যারা আমাদের সাথে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন যে তারা তাদের সন্তানকে দেশের সঠিক ইতিহাসটি জানাবেন।

হাসিব আল ফাহাদ বলেন, ÒSmileÓ A non-profitable organization. “হাসি হোক সকল শিশুর”। কোনো পৃষ্ঠপোষকতা, কারো পরামর্শ ছাড়া আমাদের পথচলা শুরু। কারো কোনো প্রকার অভিজ্ঞতা না থাকার পরেও সফলভাবে আমাদের এ ভিন্ন আয়োজন সম্পূন্ন করতে পেরে প্রফুল্লতাবোধ করছি।

প্রিন্স, ঢাকা