আপন জুয়েলার্সের মালিকদের জামিন স্থগিত

নিউজ ডেস্ক:  অর্থ পাচারের অভিযোগে করা একটি করে মামলায় আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতাদেশের মেয়াদ ২ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর ওইদিন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বেঞ্চের বিচারপতি মির্জা হুসেইন হায়দার এই আদেশ দেন।

আদালতে আপন জুয়েলার্সের তিন মালিকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। এর আগে ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ পৃথক তিন মামলায় ওই তিনজনকে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানালে গত ১৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিশেষ চেম্বার আদালত ২১ এিসম্বর পর্যন্ত ওই জামিন আদেশ স্থগিত করেন। বৃহস্পতিবার অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি ওই স্থগিতাদেশের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন।

রেইনট্রি হোটেলে গত ২৮ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের শিকারের অভিযোগে ৬ মে বনানী থানায় মামলা হয়। পরে গত ৪ জুন শুল্ক বিভাগ আপন জুয়েলার্সের ডিএনসিসি মার্কেট, উত্তরা, মৌচাক, সীমান্ত স্কয়ার ও সুবাস্তু ইনম শাখা থেকে প্রায় ১৫ মণ সোনা ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড জব্দ করার পর তা রাষ্ট্রীয় অনুকুলে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এরপর দিলদার আহমেদ সেলিম এবং তার দুই ভাই গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি ও মানি লন্ডারিং-এর অভিযোগ পৃথক ৫টি মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

এসব মামলায় গত ২২ আগষ্ট তিনজনকেই চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এরপর আদের নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও তারা হাজিরা দেননি। একারণে গত ২৩ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরদিন ২৪ অক্টোবর তারা নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। কিন্তু আদালত তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই থেকে কারাবন্দি অবস্থায় তারা হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।