ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সোনারাঙা রোদ

ডোমার প্রতিনিধি: সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে শরৎ বিদায় নিয়েছে সেই কবে। হেমন্তের শিশির বিন্দুতে সাদা কাশফুলের রঙও এখন ধূসর প্রায়। তবে শীতের আগমনী বার্তায় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে ভোরের সোনারাঙা রোদ। শুরু হয়েছে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।

গত দুই তিন দিনে প্রচন্ড শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে ডোমার উপজেলার চিলাহাটির মানুষ। ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে জনপদ। রাতের বেলায় তীব্র শীত জেঁকে বসায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। কোথাও কোথাও দুপুরের আগে দেখা মিলছে না সূর্যের।

এছাড়া বৃদ্ধ ও শিশুদের মধ্যে বেড়ে গেছে শীতজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপ। সব মিলিয়ে শীতে ডোমার উপজেলার গ্রামগুলোর জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ডোমার চিলাহাটিতে গত কয়েকদিন ধরে রাতে তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় আর উত্তরের হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে হিমালয়ের পাদদেশের এই জনপদে। দুর্ভোগে পড়েছেন ডোমার উপজেলার মানুষ।

শীতের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না গবাদি পশুও। বোরো মৌসুম শুরু হলেও কনকনে ঠান্ডায় মাঠে কাজ করতে পারছেন না কৃষি শ্রমিকরা। অনেকে কাজের সন্ধানে বের হলেও কাজ জুটছে না। শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে ও লেপ-তোষকের দোকানেও মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এসব বাজারে পুরনো কাপড়ের ক্রেতা বেশি।

নতুন কাপড়ের চেয়ে পুরনো কাপড়ের চাহিদা বেশি বলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়। তা ছাড়া এই কাপড়গুলো দেখতে সুন্দর, মানসম্পন্ন ও টেকসই হওয়ায় ক্রেতাদের এসব কাপড়ে আগ্রহ বেশি। বিদেশি পুরাতন শীতের কাপড়ের দাম তুলনামূলক কম হলেও দাম বেশি নিচ্ছে দোকানদাররা কিন্তু গ্রামের সব শ্রেণির মানুষ ফুটপাত থেকে শীতের পোশাক কিনছে।

কেউ কেউ খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। আবার বিকেল গড়াতেই কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাতে ঠান্ডা আরো বেড়ে যায়। রাতভর টুপটাপ শব্দে চলে কুয়াশাপাত। এ সময় তাপমাত্রা আরো কমে আসে। রাতের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চালাতে হিমশিম খাচ্ছে চালকরা। শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে শীত একটু বেশি অনুভূত হচ্ছে। রাত ৮টার পরেই ফাঁকা হয়ে যায় গ্রামের হাট-বাজারগুলো।

প্রিন্স, ঢাকা