মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে আসুন: স্পিকার

নিউজ ডেস্ক: স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গড়তে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

আজ সকালে তাঁর নির্বাচনী এলাকা পীরগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস-২০১৭ উপলক্ষে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান। সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

তিনি বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের তথা স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের জন্য জাতির পিতার সংগ্রামের ইতিহাস, ৩০লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগ, ২ লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হানির ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।

স্পিকার বলেন, জাতিকে মেধা শূন্য করার হীন চক্রান্ত চরিতার্থ করতে বিজয়ের ঠিক আগ মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতির সূর্য সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকার আল বদরেরা। সেই সব বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের জাতি শ্রদ্ধাভরে চিরদিন স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ ২৩ বছরের লড়াই-সংগ্রামের ফসল আমাদের স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও ৭ মার্চের দিক নির্দেশনামূলক ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে জাতি, ধর্ম, বর্ণ র্নিবিশেষে সকল স্তরের মুক্তিকামী জনতা সেদিন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আর বিজয়ী বীরের বেশে তাঁরা ঘরে ফিরেছিল।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগের তথা স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, দেশের জন্য জাতির পিতার সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গড়তে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশ ও জাতি গর্বিত। শিক্ষার্থীদেরকে তিনি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বারবার শোনার আহবান জানিয়ে বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের মর্ম অনুধাবন করে তা ধারণ করতে হবে ।

এর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মো: ওয়াহিদ্দুজ্জামান, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম, শাহাদাত হোসেন বকুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড এর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতকরা হয়।