প্রেস কর্মচারীর মাধ্যমে ঢাবির প্রশ্নফাঁস: সিআইডি

নিউজ ডেস্ক :ঢাকার ইন্দিরা রোডের একটি প্রেসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে আসছিল। এই প্রেসে ছাপা হতো ভর্তির প্রশ্ন।

এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মূলোৎপাটন করে অর্গানাইজড ক্রাইম সিআইডি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মালিবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

মোল্যা নজরুল জানান, বুধবার(১৩ ডিসেম্বর) জামালপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাইফুল ইসলামকে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ফার্মগেটের ইন্দিরা রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয় খান বাহাদুরকে। তিনি এই প্রেসের কর্মচারী। যার মাধ্যমে মূলত প্রশ্নফাঁসের সূত্রপাত।

তিনি বলেন, খান বাহাদুররে সঙ্গে পরিচয় ছিল সাইফুল ইসলামের। সাইফুলের সঙ্গে পরিচয় ছিল রকিবুল হাসান নামের আরেকজনের। মূলত এই তিনজনের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিভিন্ন জায়গায় ছড়ায়। এই তিনজনকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, এর আগে প্রশ্নপত্রফাঁস ও ডিভাইস সাপ্লাই পদ্ধতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সাত শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকটোরিয়াল টিমের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের তথ্যমতে, গত ৭ ডিসেম্বর রাজধানীর জিগাতলার থেকে ডিভাইস সাপ্লাই ও প্রশ্ন ফাঁস করা গ্রুপের অন্যতম নাজমুল হাসান নাঈমকে(১৯) গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে ৯ ডিসেম্বর রাজশাহীর মেডিকেল এলাকা থেকে বনি ইসরাইল(২৩) ও বিনোদপুর এলাকা থেকে মো. মারুফকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

‘মূলত বনি ইসরাইল ও মারুফ দু’জনই ছাত্র সংগ্রহ ও তাদের তথ্য সংগ্রহ করে জানত রকিবুল হাসানকে। রকিবুল মূলত নাটোর ও পাবনা জেলার ক্রীড়া কর্মকর্তা, ১১ ডিসেম্বর রাজশাহী থেকে রবিকুলকে(২৮) গ্রেপ্তার করা হয়।পরের দিন রকিবুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, রকিবুলের দেওয়া তথ্যে আমরা ১৩ ডিসেম্বর জামালপুর থেকে সাইফুলকে গ্রেফতার করি।’বলেন তিনি।

মোল্যা নজরুল বলেন, গ্রেপ্তার হওয়াদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। আর চলতি বছর এই পরীক্ষা নিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ থেকে ৭ লাখ টাকার লেনদেন হতো।

মোল্যা নজরুল বলেন, প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যার মধ্যে গত ৭ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন কারাগারে, তিনজন রিমান্ডে এবং দুজন গ্রেপ্তার আছেন।