নীতিমালা অমান্য করে ফি আদায় করলেই ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, সরকার কর্তৃক প্রণয়নকৃত শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা অমান্য করে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায় করলে অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সাথে একাডেমিক স্বীকৃতিও বাতিল করা হতে পারে।

শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তির আবেদন ফরমের জন্য এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিও বর্হিভ‚ত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২’শ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করা যাবে। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্ব সাকল্যে মফস্বল এলাকায় ৫’শ, পৌর ও উপজেলা এলাকায় ১ হাজার, পৌর ও জেলা সদর এলাকায় ২ হাজার এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া যাবে।

একই প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক ক্লাস থেকে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির ক্ষেত্রে সেশন চার্জ নেয়া যাবে কিন্তু পুনঃভর্তির ফি নেয়া যাবে না। দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ভর্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ নির্ধারিত ফি যতদূর সম্ভব মওকুফের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নসহ অন্যান্য ফি গ্রহণ করা যাবে না। হেফজ্খানা ও কোরআনে হাফেজ শিক্ষার্থীদেরকে মূল শিক্ষায় ভর্তি হতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে।

লাটারি ভর্তি কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। লাটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি অপেক্ষমান তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ভর্তি না হলে অপেক্ষমান তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের প্রস্তুতকৃত মেধাক্রম অনুসারে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই করতে হবে।

প্রতিষ্ঠান প্রধানগণকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শূন্য আসন সংখ্যা উল্লেখপূর্বক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। অভিভাবকদের সন্তুষ্ট করে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অধিক টাকা আদায় না করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যা এবং পুত্র-কন্যা পাওয়া না গেলে তাদের নাতি-নাতনীদের ন্যূনতম যোগ্যতা সাপেক্ষে ভর্তির জন্য শূন্য আসনের ৫% কোটা ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে শূন্য আসনের ২% কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে বেসরকারি স্কুল/স্কুল এন্ড কলেজে মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক ও সংযুক্ত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা বিষয়ে ভর্তি তদারকি ও পরিবীক্ষণ কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাব চট্টগ্রামের সভাপতি এস.এম নাজের হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক গাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি আবদুল মান্নান, ক্যাব মহানগরের যুগ্ম সম্পাদক এ.এম তৌহিদুল ইসলাম, ক্যাব সদরঘাট থানার সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস, মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজম রনি, সরকারি জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম রেডিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, কর্ণফুলী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আবু বকর সিকদার প্রমুখ।

সভায় চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্স, ঢাকা