বিচারকদের চাকরির বিধিমালার গেজেট আগামী সপ্তাহে: আইনমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা বিধিমালার গেজেট আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে প্রকাশ হতে পারে। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা বিধির চূড়ান্ত খসড়াটি রাষ্ট্রপতির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। রবিবার নাগাদ এটা আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসতে পারে।

গতকাল শুক্রবার বাংলাদেশ আইন সমিতির ৩২তম বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ প্রাঙ্গণে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আইন সমিতির সভাপতি একেএম আফজাল উল মুনীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান প্রমুখ।

এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমান তো পলাতক আসামি। তার বিরুদ্ধে আরো নানা অভিযোগ উঠছে। এসব অভিযোগের ব্যাপারে তদন্ত করা যাদের দায়িত্ব তারা তদন্ত করবেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল সংক্রান্ত মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। আর দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা আছে।

এই খসড়া মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে পাস হওয়ার পরে সংসদে যাবে। এছাড়া ইতিহাস বিকৃতি আইন সম্পর্কিত খসড়া প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইনমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় তত্কালীন কর্তৃপক্ষ তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছিল। তবে, আনন্দের ও স্বস্তির ব্যাপার হচ্ছে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জাতির পিতার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আইন সমিতির সদস্যগণ যেখানেই থাকুন না কেন সেখান থেকেই তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, জেলহত্যা মামলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে চির বিদায় দিয়ে দেশে ন্যায়বিচারের যে দ্বার উন্মোচন করা হয়েছে, তার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

তিনি বলেন, দেশের আইন অঙ্গনে যখন কোনো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে কিংবা দেশে কোনো সাংবিধানিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয় তখন তা উত্তরণের উপায় বাতলে দিয়ে আইন সমিতি রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে ভূমিকা পালন করতে পারে। আর এটি সর্বজনগ্রাহ্যভাবে করতে পারলে সমিতি তার নামের প্রতি সুবিচার করতে পারবে।