ঈশ্বরদীতে দেশের সেরা কৃষকদের সমন্বয়ে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ঈশ্বরদী সংবাদদাতা: ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের আড়কান্দি গ্রামে ময়েজ উদ্দিন কৃষি খামারে দেশের সেরা কৃষকদের সমন্বয়ে কৃষক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকার ৭০টি সিআইজি প্রতিনিধি দলের সভাপতি ও সম্পাদক জাতীয় কৃষকদের সাথে গতকাল সোমবার দিন ব্যাপী মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা সদর থানা কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মুন্নু।

বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটি কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রওশন জামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঈশ্বরদী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মৌমিতা পারভীন, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন, উপজেলা প্রডিউসার অর্গানাইজেশন সভাপতি মুরাদ মালিথা ও সাধারন সম্পাদক আশরাফ আলী।

মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক হাবিবুর রহমান মৎস্য হাবিব, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক জাহিদুল ইসলাম গাজর জাহিদ, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি স্বর্ণ পদক প্রাপ্ত কৃষক বেলি বেগম, বঙ্গবন্ধু জাতিয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর আবুল হাসেম, রোকনুজ্জামান ডিলু, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, পোল্ট্রি চাষি আবদুল হাকিম ও মৎস্য চাষি আবু তালেব জোয়াদ্দার প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সোসাইটির সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল কিতাব মন্ডল।

বক্তারা বলেন, কৃষির উপর এদেশ নির্ভরশীল। একমাত্র কৃষিই দেশকে এগিয়ে নিয়েছে। আধুনিক কৃষির কারণে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। দেশে নতুন নতুন ফসলের চাষ ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। এর পরেও এদেশের কৃষকেরা আজ অবহেলিত। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফসল ফলানোর পর বাজারে তার সঠিক মূল্য পাওয়া যায়না। এতে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়াতে ইতোমধ্যে অনেক কৃষক পথে বসে গেছেন। কৃষি আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য, অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। বাংলার উর্বর জমিনে এদেশের কৃষকগণ তাদের ঘামের সাথে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সংমিশ্রণে প্রাকৃতিক বৈরিতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এদেশের কৃষি উন্নয়নের দিকে এগিয়ে চলেছে। অথচ ক্ষুধার অন্ন জোগানো কৃষক আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপিড়িত।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কৃষি ব্যাংককে আরও বেশি টাকা প্রদান করা হোক। কৃষি ব্যাংক থেকে কৃষকদের মাঝে স্বল্প সুদে এই টাকা প্রদান করা হলে এদেশের কৃষি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। মদ প্রস্তুত কারক কোম্পানী, ঔষধ প্রস্তুত কারক কোম্পানী, কীটনাষক প্রস্তুত কারক কোম্পানী, বীজ উৎপাদক কোম্পানী ও রাসায়নিক সার প্রস্তুত কারক কোম্পানী ধনী হলেও আজও এদেশের কৃষকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা।

জাতীয় কৃষকদের সরকারি কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। কৃষির উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়াতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অনেক কৃষক তা পরিশোধ করতে পারছেন না। ব্যাংকের সুদ মওকুফ করে নতুন ভাবে ঋন দিয়ে খামার পরিচালনার জন্য সভা থেকে বক্তারা সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন। এছাড়া কৃষি পণ্য সংরক্ষনের জন্য কৃষি হিমাগার ও কৃষি বীমার দাবি তোলেন।

প্রিন্স, ঢাকা