স্মৃতির পুঁটলি

এম এস প্রিন্স

পূজার সময়ে আসিয়াছি না দিও ফিরে
নাও না গো তোমার দলে আপনা করে।
গায়ে কি কাপড়, কিই বা জাত ধর্ম নয় সে কথা
ধরাতে আমি মানুষ শুধু জানি এ সবুজ সজীবতা।

এত কাল জঙ্গলে থাকিবার কারণ-
না আছে বাবা, আমি একা করিব কেমনে ভোজন?
না আছে জমি-জমা না আছে বাড়ি ঘর
কেমনেই বা করিব আশা না হ’তে অজর।
অনাহারে দু’দিন, বুকেরও যে দশা
কষও আসেনা ক্ষুধায় ভাংল বাবুর অধরকোষা।
আমারে সহ তাই আপনারে বাঁচাতে মা চলিল
চলিতে চলিতে সম্মুখে পাহাড় পরিল।
দু’ধারে পাহাড় মাঝে পথ
পূর্বে না খুলিলেও এই-বার খোলে হাতে নিল মা নথ।
আবার আমারে কোলে নিয়া মা পথ চলিল
চলিতে চলিতে পাহাড়ের মাঝখানে গেল।
ক্ষুধায় প্রাণ যায় যায়
রাখিবে ধরিয়া আর নাই কোনো উপায়।
নয়ন সম্মুখে ধুতরো ফল পড়িল
না চিনিয়া আপনারে বাঁচাতে মা তাই খাইল।
খাইবার পর বিষক্রিয়ায় পাগলের যত অভিনয়
মাটিতে ফেলিয়া দিলেও আমি তাহার সন্তান আছে সে পরিচয়।
হৈ চৈ আর যত শুনিয়া দানব আসিল
আসিয়া দু’জনারে দেখিয়া বলিল-
বহু দিন ধরিয়া খুঁজিতেছি খাবার
পাই নাই কোথাও আমি ভোজন করিতে কিছু আর।
আমার ধারে তোরা! খোদার কি লিলা, ওরে
খাইব তোদেরে মিঠাতে ক্ষুধার জ্বালারে।
খাইবে খাও আমারে খাও নাই কোনো ক্লেশ
বুকের ধনরে বাঁচায়ে রাখ ভুলিয়া হিংসা বিদ্বেষ।
আর যতন করিয়া রাখিয়া দাও আমার নাকের নথ
সোনা মানিকের যৌবনে ফিরায়ে দিয়া বলিও
ওই তোর মায়ের সোনার রথ।
বাঁচিয়া রহিব তাহার মাঝে আমি এই ধরা তরে
ছায়াতে হ’লেও দেখিতে পা’ব সোনা মানিক কি করে।
মা’রে ভোজন করিয়া দানব তৃপ্তি পাইল
তবে নথ ফিরায়ে দিবার কালে যাহা বলিল-
মরিয়াছে সত্য বটে দেখিয়া ল এক নজর
আমার পিঠেতেই রয়েছে তোর মায়ের কবর।
এই খাতিরে তোরে পালিয়াছি মাতৃত্বের স্নেহ দিয়া
ভুলিস না কভু এ মোহ, যাস যদি জনপদে ফিরিয়া।

থাক না ভাই ও-সব যত
আমারে করিয়া নাও তোমার ধর্মে রত।
তবু থাকিতে দাও, না দিও ফিরে
আমি মানুষ মানুষ হয়ে থাকিতে চাই জগৎ সংসারে।
কেমনে থাকিতে দিব কিই বা বলিব আর
দানবের সঙ্গে থাকিয়া শিখিয়াছ ধর্ম যত তাহার।
আমাদের সঙ্গে ভাব করিয়া যাইবে লয়ে একজন করিয়া ধরি
দানবেরে নিয়া খাইবে, আমরা মরিব চক্ষের জল ঝরি।
পাইব কোথা রহিবেই বা কি দীর্ঘশ্বাসের গল্পে
আছ যেথা থাক সেথা সেই ভালো জীবনপ্রদিপে।

মরিয়া গিয়াছে দানব নাহি আমাতে তাহার কোনো ধর্ম
জগৎ সংসারে আমি মানুষ বুঝি মানুষের কি মর্ম।
গঙ্গার জলে স্নান করিয়া আসিয়াছি ফিরে
পূজার সময় নাও তোমার দলে আপনা করে।
মরিয়া গিয়াছে দানব বুঝিব কেমনে কিই বা তাহার প্রমাণ
তোমারে ঠাঁই দিয়া চাইনা হারাইতে আমার মান সম্মান।
পাহাড়ের দক্ষিণ কোণে গাছের ডালে
ঐ যে দেখ দানবের কঙ্কাল রয়েছে ঝুলে।

***
ভুলি নাই ভুলি নাইরে দানব তোর মাতৃত্ব
আমার মনের গভীরে রয়েছে তোর অস্তিত্ব।