সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: রাণীশংকৈল উপজেলার কোচল ও হরিপুর উপজেলার চাপসা সীমান্তে ০১ ডিসেম্বর শুক্রবার ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তের ৩৪৫/৫ নম্বর থেকে ৩৪৬/৯ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়। প্রতি বছর পাথরকালী নামে এই মেলা বিজিবি ও বিএসএফের সম্মতিতে দুই বাংলার মানুষের সাক্ষাতের সুযোগ হয়। কাঁটাতারের বেড়া তাদের আলাদা করে রাখলেও আবেগ পৌঁছে যায় দেশকালের সীমানা ডিঙ্গিয়ে।

মেলা স্থলে কথা হয় জয়পুরহাট থেকে আসা মলিনার সাথে। তিনি বলেন ১৬ বছর পর ছোট ভাইয়ের দেখা পেয়ে চোখের পানি বাঁধ মানছিল না। সে থাকে পশ্চিম বাংলার জলপাইগুড়ি জেলার রায়গঞ্জ থানায়। অনেক দিন পর আজ সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে দেখা হলো। ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর এবং ভারতের কোচবিহার, আসাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাই সাইকেল, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, মিনিবাস যোগে মেলা স্থলে আসেন লাখো মানুষ। শুক্রবার বিজিবি ও বিএসএফের সম্মতিতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে এ মিলন মেলা। সীমান্ত এলাকার স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা সীমান্তে আসেন। দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হবার এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চায় না কেউ। প্রতি বছর দু’দেশের স্বজনদের এ মিলন মেলা বসে এখানে।

সীমা রাণী ভারতীয় সীমান্তে ও শ্বাশুড়ী মালতি রাণী বাংলাদেশ সীমান্তে। নাতী নাতনি সবাই সবার সাথে কথা বলছে কান্নাজড়িত কন্ঠে। মালতি রাণী বলেন ৬ বছর পর জামাই ও মেয়ের দেখা পেলাম একে অপরকে জড়িয়ে ধরার ইচ্ছা থাকলেও পারছিনা। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। ১৯৪৭ সালে উপজেলার সীমান্ত এলাকা ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত ছিল।

দেশ ভাগের পর আত্মীয় স্বজনেরা দু’দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর কেউ কারো সাথে দেখা সাক্ষাত করতে পারেন না। অপেক্ষা করে থাকেন এই দিনটির জন্য। দু’দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সাধারণ মানুষ টাকা পয়সার অভাবে পাসপোর্ট ভিসা করতে পারেন না। তারা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগে থেকেই জানিয়ে দেয় স্বজনরা। কে কোথায় দেখা করবে। ভারতীয় অধিবাসীরা কাঁটাতারের পাশে এলে সেখানে বাংলাদেশেরও নারী পুরুষ সমবেত হয়।

প্রিন্স, ঢাকা