লক্ষ্মীপুর গণগ্রন্থাগারে পাঠক বাড়লেও অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়নি

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: পড়লে বই আলোকিত হই, না পড়লে বই অন্ধকারে রই। অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে বইয়ের বিকল্প নেই। তাইতো আলোকিত হওয়ার প্রচেষ্টায় সকল বয়সের পাঠকে ভরে থাকে লক্ষ্মীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার। প্রতিদিনই বাড়ছে পাঠক; বছর-বছর বাড়ছে বই। তবে পাঠক ও বইয়ের সাথে বাড়েনি পাঠকক্ষ। নেই কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সেবা। শিশুদের জন্য বিশেষ পাঠকক্ষ ও প্রবীণ কর্ণার নেই। এছাড়াও পর্যাপ্ত চেয়ার-টেবিলের অভাব ও জনবল সংকট রয়েছে। আট বছর ধরে গ্রন্থাগারীক (প্রধান লাইব্রেরিয়ান) পদটিও শূন্য।

১৯৮৪ সালের ১৮ জুন লক্ষ্মীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার উদ্বোধন হয়। রামগতি লক্ষ্মীপুর সড়কের রামগতি বাস-স্ট্যান্ডের পাশে এটি অবস্থিত। বর্তমানে গ্রন্থাগারের বইয়ের সংখ্যা ২৫ হাজার। দৈনিক পাঠক উপস্থিতি প্রায় এক হাজার।

লক্ষ্মীপুর গণগ্রন্থাগার শনি থেকে বুধবার সপ্তাহে ৫দিন খোলা থাকে। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত পাঠকরা বই পড়েন। ধারে বই বাড়িতে নিয়ে পড়ার সুযোগও রয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সকল বয়সের পাঠক রয়েছে এ গ্রন্থাগারে। স্কুল-কলেজের ছাত্রীরাও নিয়মিত পাঠক।

গ্রন্থাগারে একটি ইংরেজীসহ প্রতিদিন ১২টি দৈনিক পত্রিকা আসছে। বেশ কয়েকটি সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা পড়ার ব্যবস্থা আছে। লক্ষ্মীপুর থেকে প্রকাশিত সকল পত্রিকা ও বিভিন্ন ম্যাগাজিনও আসে গ্রন্থাগারে।

সর্বস্তরের জনসাধারণের পাঠাভ্যাস বৃদ্ধি এবং গ্রন্থাগারের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমও চালু রয়েছে। যেমন- বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে রচনা, সুন্দর হাতের লেখা ও বই পড়া প্রতিযোগীতা ও বেসরকারি গণগ্রন্থাগার নিবন্ধন করা হয়।

লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মেহরাব হাসান, আকছিরুল হাসান ও আবির হোসেন জানায়, গল্প এবং বিজ্ঞান বিষয়ক বই পড়তে তাদের ভালো লাগে। তাই সময় করে গ্রন্থাগারে বই পড়তে আসে তারা।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক খালেদ মোহাম্মদ সাইফ উল্যাহ বলেন, ছাত্র জীবনে আমি গণগ্রন্থাগারের নিয়মিত পাঠক ছিলাম। বিশাল এই জ্ঞান ভান্ডার থেকে অর্জন অনেক। এখন সময়ের সাথে গ্রন্থাগারে প্রয়োজন গবেষণা কক্ষ, শিশু ও প্রবীণদের জন্য আলাদা কর্ণার।

লক্ষ্মীপুর সরকারি গণগ্রন্থাগারের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার জানান, গত কয়েক বছরে পাঠক সংখ্যা বেড়ে কয়েকগুন হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার পাঠকের উপস্থিতি হয়। এখানে পর্যাপ্ত পাঠ কক্ষ ও জনবল নেই। ভবনটিকে দোতলায় উন্নীত করে পাঠকক্ষ বাড়াতে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষেকে জানানো হয়েছে।