বাজারের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের সম্পর্ক স্থাপনে প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে হবে – ড. আতিউর রহমান

“নারীদের আর্থিক অন্তর্ভূক্তি নিশ্চিত করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ করে কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের সাথে যুক্ত নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন প্রশংসনীয়। এসব অর্জনকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য এখন বাজারের সাথে নারী উদ্যোক্তাদের সংযোগ স্থাপনে সহায়তা দেয়া প্রয়োজন।”- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। আজ ঢাকায় ‘রি-ইমাজিনিং সাসটেইনেবল পাথওয়েজ ফর ওমেন’স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট ইন রুরাল বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি সংলাপ অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য রাখার সময় তিনি একথা বলেছেন। “ওমেন’স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট থ্রু স্ট্রেংদেনিং মার্কেট সিস্টেমস (ডব্লুইইএসএমএস)” প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে আইডিই এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশন। সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (সিডা)র অর্থায়নে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আইডিই এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশন।

বাংলাদেশে সুইডেনের মাননীয় রাষ্ট্রদূত শার্লটা সাইথলার অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেছেন। আইডিই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর দীপক ধোজ খাড়কা এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সারা এল. টেইলর ডব্লুইইএসএমএস প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ফেডারেশন অফ ওমেন এন্টারপ্রেনারস-এর রোকেয়ো আফজাল রহমান, নারী উদ্যোক্তা এবং ঢাকা ডো এর অন্যতম কর্ণধার শামীমা আখতার, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্নেন্স এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর সিমীন মাহমুদ, এবং সিপিডি’র ডিস্টিঙ্গুইসড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

ড. আতিউর তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে যুক্ত থাকা নারী উদ্যোক্তারা যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পান তা নিশ্চিত করেছেন। সরকারও এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দিয়েছে। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের সুফল পেয়েছেন এসব নারী উদ্যোক্তারা। যেমন: বর্তমানে কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের জন্য দেয়া ঋণের শতকরা ১০ ভাগ পাচ্ছেন নারীরা, প্রতিটি ব্যাংক শাখায় নারীদের জন্য আলাদা হেল্প ডেস্ক বসানো হয়েছে, কুটির-ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে থাকা নারীদেরকে দেয়া ঋণের পরিমাণ ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। তিনি আরও বলেন যে- নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এখনও বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। যেমন: পুঁজির অভাব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক বাঁধা, আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, আর্থিক খাত সম্পর্কে অজ্ঞতা, পছন্দ অনুযায়ি সেবা না থাকা ইত্যাদি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে আইসিটি প্রযুক্তির সহায়তা নেয়া যেতে পারে। এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসের মতো ডিজিটাল উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগগুলো নারীর আর্থিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।