টিভি নাটকে নতুন নির্মাতাদের ভালো-মন্দ

নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে দেশে রয়েছে প্রায় ৩০টিরও বেশি টিভি চ্যানেল। চ্যানেলগুলোতে সপ্তাহব্যাপী নিয়মিত প্রচার হয় অনেক নাটক।

ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ বিভিন্ন দিনে ও উৎসবে সাজানো টিভি অনুষ্ঠানমালার মূল আকর্ষণ থাকে নাটক। ইদানীং কিছু নতুন নির্মাতার নাটকগুলো অপেক্ষাকৃত ভালো হচ্ছে। নাটকগুলোর গল্প দর্শকদের মুখে মুখে ফিরছে। ফেসবুকসহ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন নির্মাতাদের নতুন নতুন নাটক নির্মাণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। তরুণ নির্মাতাদের বেশকিছু নাটক পেয়েছে জনপ্রিয়তার শীর্ষত্ব। এটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য একটা ইতিবাচক দিক। গত দুই ঈদ উৎসবে ছিল নতুন নতুন নাটক ও টেলিছবির সমাহার। নতুন নির্মাতাদের পরিচালনায় টিভি চ্যানেলগুলো উল্লেখসংখ্যক নাটক প্রচার করেছে। গত ঈদে মিজানুর রহমান আরিয়ানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি প্রশংসিত নাটক ছিল ‘বড় ছেলে’। নাটকটিতে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের এক বড় ছেলের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। নাটকটিতে বড় ছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অপূর্ব, তার বিপরীতে ছিলেন মেহজাবীন। অন্যদিকে গত ঈদুল ফিতরে প্রচারিত আদনান আল রাজীবের পরিচালিত ছবিয়াল রিইউনিয়ন সিরিজের নাটক ‘বিকাল বেলার পাখি’ দর্শকের মন জয় করতে পেরেছে। মূল চরিত্রে ছিলেন অ্যালেন শুভ্র, ফজলুর রহমান বাবু, ইলোরা গহর প্রমুখ। এ ছাড়াও ইমেল হকের পরিচালনায় ‘মায়া ও মমতার গল্প’ নাটকে চটপটে অরিত্রের অভিনয় নজর কেড়েছে সব দর্শকের।

এই সময়ে টিভি নাটকে বিশেষ লক্ষণীয় দিক হচ্ছে নির্মাতাদের প্রতিযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচারিত বেশকিছু নাটকে বৈচিত্র্য চোখে পড়ছে। বস্তাপচা গল্পের পরিবর্তে সৃজনশীল গল্প, লোকেশন আর বিষয়বৈচিত্র্যের বেশকিছু নাটক দর্শকের মনে কিছুটা হলেও দোলা দিতে পেরেছে। নির্মাতা হিসেবে টেলিভিশনে নুহাশ হুমায়ূনের প্রথম কাজ ‘হোটেল আলবাট্রোস’। প্রথম কাজেই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে। অন্যদিকে গত ঈদে তরুণ নির্মাতা মুরসালিন শুভর পরিচালনায় অসাধারণ নাটক ছিল ‘অভিনন্দন’। মোশাররফ করিম এ নাটকে অভিনয় করেছেন। নাটকটিতে তার অভিনয় মনে রাখার মতো। নিম্নমানের গল্পের কারণে প্রতিভাবান অনেক নির্মাতার নির্মাণ ও অভিনেতার অভিনয় দৃষ্টিকটু লাগে-এটা থাকবেই। তবে ভালো গল্পের নাটকও যে হচ্ছে এ জন্য সাধুবাদ জানাই পরিচালক, প্রযোজক ও চ্যানেল মালিকদের। বেশি বিজ্ঞাপন প্রচার থাকলেও কিছু বিরতিহীন নাটক সবার প্রশংসা অর্জন করে। গত দুই ঈদে একঝাঁক নতুন নির্মাতা এসেছেন। নাটকের সময় বিজ্ঞাপন প্রচারের পরিমিত ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। যার ফলে কিছুটা হলেও দর্শক দেশীয় চ্যানেল দেখেছেন। অনেকেই বলছেন, নতুন চোখে নতুন গল্প দেখতে বেশ ভালো লেগেছে। গত ঈদে অমিতাভ রেজা সাত তরুণ নির্মাতাকে সঙ্গে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ‘আয়নাবাজি অরিজিনাল সিরিজ’ নিয়ে। মেজবাউর রহমান সুমন ও অমিতাভ রেজার তত্ত্বাবধানে ‘অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প’ সিরিজে সাত তরুণ নির্মাতা নির্মাণ করেন সাতটি এক ঘণ্টার নাটক। তবে নাটকের বিষয়বস্তু ও নির্মাণশৈলী ভালো ছিল বলেই দর্শক সংখ্যা বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতা থাকলে আগামীতেও দর্শক দেশীয় টিভিমুখী হবেন বলেই তারা মনে করছেন। ইদানীং সময়ে প্রচার হওয়া নতুন নির্মাতাদের উল্লেখযোগ্য নাটক ও টেলিছবির মধ্যে রয়েছে মাবরুর রশীদ বান্নার ‘আমি তুমি ও আমরা’, ‘লাল রঙা স্বপ্ন’, ‘আমাদের গল্পটা এমনও হতে পারতো’, ‘আফটার ম্যারিজ’, ‘হেট ইউ’, ‘ইটস মাই লাভ স্টোরি’, ‘হার নাকি জিত, মিজানুর রহমান আরিয়ানের ‘ব্যাচ ২৭ দ্য লাস্ট পেজ’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস, নিয়াজ মাহবুবের ‘গল্পের ইলিশ’, শ্রাবণী ফেরদৌসের ‘প্রেম’, সৈয়দ শাকিলের ‘ছাড়পত্র’, আবু শাহেদ ইমনের ‘গোল্ডেন এ প্লাস’, মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের ‘বাস কেবিন’, তুহিন হোসেনের ‘রোমিও জুলিয়েট’, ‘সাবলেট গুবলেট, ‘দূরের জানালা, ‘বউগিরি’সহ বেশ কয়েকটি নাটক নিয়ে ফেসবুকে বেশ আলোচনাও হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছরের নাটকের মান বেড়েছে। নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদের ‘কুসুম কুসুম প্রেম’, সাত পর্বের নাটক ‘লজ্জাবতী লজ্জা’, ‘বাড়ি বদল’, ‘দিলীপকুমার ও বৈজয়ন্তীমালা’, ‘বৃষ্টিদের বাড়ি’, ‘বখতিয়ারের বাইক’, ‘লাভ টু মিটার’, ‘ভাঙন’ সবার প্রশংসা অর্জন করে। এ ছাড়া চ্যানেলগুলোতে তানিম রহমান অংশুসহ আরও বেশকিছু তরুণ নির্মাতার নাটক এই সময়ে সবার নজর কাড়ে। রোমান রনি, হুমায়ুন রশীদ সম্রাট, অনন্য ইমন, হাসান রেজাউলসহ অনেক তরুণ নির্মাতাও ভালো ভালো নাটক বানাচ্ছেন। এক্ষেত্রে বলা যায়, টিভি চ্যানেলগুলো তরুণদের ওপর আস্থা রাখছে। এখন দেখার বিষয় তারা কতটা আস্থার প্রতিফলন ভবিষ্যতে দেখাতে পারেন।