পিরোজপুর (৩) মঠবাড়িয়া আসনে আলহাজ্ব শামিম মৃধার গণসংযোগ

মজিবর রহমান: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে হোটেল রেঁস্তোরা ও চায়ের দোকান সহ পাড়া মহল্লা প্রত্যন্ত এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে। ইতি মধ্যেই প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সভা সমাবেশ সহ  উঠোন বৈঠক করতে শুরু করেছেন।
 
মঠবাড়িয়ার এ আসনটি আওয়ামীলীগের দূর্গ হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও আওয়ামীলীগের গ্রুপিংএর কারনে বিএনপি বর্তমানে ভাল অবস্থানে রয়েছে। বিগত ১০টি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ৪ বার, জাতীয় পার্টি ৩ বার, বিএনপি ২বার ও স্বতন্ত্র ১ বার নির্বাচিত হয়েছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হাফ ডজন প্রার্থী মাঠে থাকলেও মনোনায়ন লবিং ও জনসমর্থনের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন তরুন প্রজন্মের আস্থা ভালোবাসার প্রতীক সৎ, যোগ্য ও নিষ্ঠাবান সংগঠক আলহাজ শামিম মৃধা। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনকে তৃর্নমূল পর্যায়ে শক্তিশালী ও গতিশীল করেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি ক্লিনইমেজ হিসেবে দলীয় ও সাধারণ মানুষের মাযে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।
 
পিরোজপুর (৩) আসনটি ১১টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এখানে নারী পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার। অর্ধ ডজন মনোনায়ন প্রত্যাশী যারা রয়েছেন তারা হলেন কর্নেল শাহ্জাহান মিলন (অবঃ), রফিকুল ইসলাম মাহ্তাব, জামাল উদ্দিন খান মিলন, আফজাল হোসেন চৌধুরী, কে এম জোবায়ের এজাজ, আলহাজ্জ হুমায়ুন কবির ও রুহুল আমিন দুলাল। ১৯৭৩ ইং সনে এ আসন থেকে প্রথম বার মরহুম সওগাতুল আলম ছগীর আওয়ামীলীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি আতঁতায়ীর গুলিতে নিহত হলে জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদ আওয়ামীলীগ থেকে ১৯৭৯ সনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
 
জাতীয় পার্টি থেকে ১৯৮৬ সনে আলহাজ্জ জব্বার ইঞ্জিনিয়ার ১৯৮৮ সনে  জাতীয় পার্টি থেকে পূণরায় তিনি সংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সনে  প্রয়াত জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহম্মেদ ১৯৯৬ সনে বিএনপি থেকে জব্বার ইঞ্জিনিয়ার জাতীয় পার্টি থেকে ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী ২০০১ সনে ২০০৮ সনে আওয়ামীলীগে ডাঃ আনোয়ার হোসেন ২০১৪, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী নির্বাচিত হন। যদিও ২০১৪ সনে বিএনপি জামায়াত নির্বাচন বয়কট করেছে। একাদ্বশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামীলীগের এক ডজন প্রার্থী মনোনায়ন প্রত্যাশী হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে দলীয় কোন্দল। যে কারণে রাজনৈতিক মাঠে একক সুবিধা নিচ্ছে বিএনপি।
 
এদিকে বিএনপি থেকে সুবিধা জনক স্থানে রয়েছেন বিএনপি নেতা আলহাজ্জ শামিম মৃধা। দলের অধিকাংশ নেতা কর্মীরা জানান, এই ত্যগী নেতাকে মনোনায়ন দিলে নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া সম্ভব হবে। কারণ ইতোমধ্যেই তিনি দলীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ জনগণের হৃদয় স্থান করে নিয়েছেন। আওয়ামীলীগ, জাতীয় পর্টি, বিএনপি মাঠে থাকলেও মূলত আওয়ামীলীগের-বিএনপি মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে। গত ২০১৪ইং দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অন্তর দন্দের কারণে ডাঃ আনোয়ার হেরে যান। অবাধ সুষ্ঠ ও নিরাপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বিএনপির দলীয় নেতা কর্মীরা মনে করছেন তাদের বিজয় সু-নিশ্চিত। এদিকে নির্ভর যোগ্য সূত্রে জানাগেছে, একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব নেতারা মনোনয়ন পেতে দৌড় ঝাপ ও লবিং করছেন তাদের মধ্যে  শামিম মৃধা এগিয়ে রয়েছেন।
 
পিরোজপুর জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম এজি  আলিম বলেন, আমি মনে করি বর্তমানে  মঠবাড়িয়ার বিএনপির যে অবস্থা তাতে এমন এক জন প্রার্থীকে মনোনায়ন দেয়া উচিত  যিনি হবেন ক্লিন ইমেজের অধিকারী জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধের বিশ্বাসী। এখানে উল্লেখ যোগ্য হিসেবে দলের আমি মনে করি তরুন, র্ধামীক, সৎ, আদর্শবান রাজনৈতিক হিসাবে  মনে করি শামিম মৃধা, জামাল উদ্দিন খান মিলন ও মাহ্তাব উদ্দিন এদের যেকোন একজনকে ম্যাডাম মনোনায়ন দিলে আমি মনে করি নির্বাচনী বৈতরনী পার হওয়া সম্ভব হবে।
 
বিএনপির জেলা কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্র নেতা প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদৌস রুমান বলেন, দলের মধ্যে ঐক্য থাকা চাই তাহলেই নির্বাচনে বিজয় হওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে দলের চেয়ারপার্সন যাকে মনোনায়ন দিবেন আমি তার হয়ে কাজ করব। ঢাকা মহানগরী দক্ষিণে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কে এম জোবায়ের এজাজ বলেন, আমি মনে করি শামিম একজন তরুন সৎ নির্বযোগ্য জাতীয়তা বাদী আদর্শে  ও ইসলামী মূল্য বোধে বিশ্বসী। সে ক্ষেত্রে  সে যদি মনোনায়ন পায় তাহলে আমি আমার সকল শক্তি ও প্রজ্ঞা দিয়ে কাজ করে যাব। আর আমিও শিকর থেকে বিএনপি করে আসছি।
 
যে কারনে আমিও মানোনায়ন প্রত্যাশীদের কাতারের একজন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সহ-সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলন জানান, মনোনায়ন প্রত্যাসি শামিম মৃধা একজন সংগঠক। তাকে মনোনায়ন দিলে পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া আসনটি বিএনপি পূণঃ উদ্ধার করতে পারবে।  মনোনায়ন প্রত্যাশী আলহাজ্জ শামিম মৃধা বলেন, দেশ নেত্রি বেগম খালেদাজিয়া আমাকে মনোনায়ন দিলে এ আসনটি নেত্রিকে উপহার দিতে পারব। এবং এলাকার মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে চিরতরে বিদায় দিয়ে মঠবাড়িয়াকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।