রোহিঙ্গা সম্পর্কে মিয়ানমারের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো নিয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত স্মারকে কী আছে তা জানা না গেলেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব মিন্ত কিয়াংকে উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রক্রিয়া মেনে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠালে তাদের গ্রহণ করা হবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও পত্রিকা দ্য টেলিগ্রাফ প্রত্যাবসন প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে তার আভাস দিয়েছে। রয়টার্স আরো জানায়, সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে স্মারকে স্বাক্ষর করলেও সেনাবাহিনী এই প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ভিত্তি ১৯৯২-৯৩ সালের চুক্তি

মিন্ত কিয়াং জানিয়েছেন, ১৯৯২-৯৩ সালের চুক্তির ওপর ভিত্তি করেই বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আগে এই চুক্তি অনুযায়ীই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৮ সালেও দুই দেশ চুক্তি করেছিল। তখন চুক্তির অধীনে ২ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিয়েছিল মিয়ানমার। সময় লেগেছিল ছয় মাস। পরে ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে আবার সমঝোতা হয়। ২০০৫ সাল পর্যন্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফেরত নেয়। কূটনীতিকরা এই চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ মনে করছেন না। তারা এই প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যুক্ত করার পক্ষে।

যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা

সমঝোতা স্মারক অনুসারে তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করা হবে। দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবসন শুরুর ব্যাপারে কাজ করবে এই কমিটি।

পরিচিতিমূলক ফরম পূরণ

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরতে হলে ফরম পূরণ করতে হবে। এই ফরমে রাখাইনে তাদের বসবাসের ঠিকানা, জন্মতারিখ ও পরিবারের সদস্যদের নাম থাকবে। এছাড়া স্বেচ্ছায় ফেরার অঙ্গীকারনামায়ও স্বাক্ষর করতে হবে তাদের।

পরিচয়ের প্রমাণ দিতে হবে

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মিয়ানমার তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু দেশটি বরাবরই ফিরতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের বৈধ কাগজপত্রের কথা বলে আসছে। বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এই নীতির বিরোধিতা করে আসছে। তবে সমঝোতা স্মারকে বাতিল হওয়া কার্ড ব্যবহারে রোহিঙ্গাদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রমাণপত্র হিসেবে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া ভোটাধিকার হারানোর আগে হোয়াইট কার্ডও প্রমাণপত্র হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে।

রয়টার্স জানায়, মিয়ানমারে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা শঙ্কিত যে সিনিয়র সেনা কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা নাও করতে পারেন। এর আগে মানবাধিকার কর্মীরাও উদ্বেগ জানিয়েছিলেন যে সামরিক বাহিনী এই প্রক্রিয়া ব্যহত করতে পারে। সামরিক বাহিনীর ওপর সু চির কোনো প্রভাব নেই। এজন্যই মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার খবরে উদ্বিগ্ন। অং সান সু চির সরকার আন্তর্জাতিক চাপের ফলে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তিটি সম্পন্ন করে। তবে জান্তা প্রণীত সংবিধানে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীই ডিফ্যাক্টো সিস্টেমের নিয়ন্ত্রক। মিয়ানমারের বর্তমান সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চরম রোহিঙ্গাবিরোধী।