পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত

নিউজ ডেস্ক: প্রচুর উৎপাদন হলেও কোনো অজুহাত ছাড়াই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে ভারতের কাঁচাপণ্যের মূল্যনির্ধারণী সংস্থা (ন্যাপেড)। শনিবার থেকে নতুন দাম ছাড়া পেঁয়াজ ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির রপ্তানিকারকরা। ফলে প্রতিবেশী দেশটি থেকে এখন পেঁয়াজ আনতে টনপ্রতি ১৬ হাজার টাকা বেশি গুনতে হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাই দামটা আরও বাড়ার আশঙ্কা। বর্তমান বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি। আর দেশিটা পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে।

ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে ভারত সরকার নিজেদের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে টনপ্রতি ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করে ৮৫০ ডলার (৬৮ হাজার টাকা), যা আগে ছিল ৬৫০ ডলার (৫২ হাজার টাকা)। রপ্তানিমূল্য ১৬ হাজার টাকা বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করা পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

১০ দিন আগেও পাইকারি বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৫২ টাকার নিচে। গত সপ্তাহে রপ্তানিমূল্য ২০০ ডলার বাড়িয়ে দেওয়ায় আমদানি বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। ফলে পাইকারি বাজারে সেটার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে পাইকারিতে কেজিপ্রতি ভারতীয় মোটা পেঁয়াজ কেনাবেচা হচ্ছে ৬৩ এবং ছোটটা ৬৫ টাকায়। কেজিতে দুই ধরনের পেঁয়াজের দামই বেড়েছে ১৩ টাকা পর্যন্ত। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭৫ টাকায়। অথচ গত জুনে ছিল ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা আমাদের সময়কে বলেন, দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ এখনো বাজারে আসেনি। তবে ভারতে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে উঠছে। ফলে দেশটিতে দামও কম আছে। কিন্তু তারা রপ্তানিমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে লোকসানের ভয়ে আমদানিকারকরা নতুন করে ভারত থেকে আর পেঁয়াজ আমদানি করছেন না। হিলি স্থলবন্দর কাঁচামাল আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশিদ হারুনও একই কথা জানিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রতিবছর দেশে পেঁয়াজের চাহিদা থাকে ২২ লাখ টন। দেশে উৎপাদন হয় ১৮ লাখ টন। বাকি চার লাখ টন আমদানি করতে হয়। আর যে ৪০ শতাংশ পেঁয়াজ আমদানি হয়, তার অধিকাংশ আসে ভারত থেকে। তাই দেশটিতে সরবরাহ থাকলেও সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেন ভারতের রপ্তানিকারকরা।

এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, পেঁয়াজ আমদানিতে ভারতনির্ভরতা কমাতে পারলে দাম কমে আসবে। এখনই উচিত হবে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা।

তবে উদ্বেগের মধ্যে আশার আলো হচ্ছেÑ সরবরাহ বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজির। অধিকাংশেরই কেজি এখন ৬০ টাকার নিচে। আদা ও রসুন অবশ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। গতকাল নগরীর চকবাজারের খুচরা ব্যবসায়ী রহমত উল্লাহ জানান, আগামী সপ্তাহে সব ধরনের সবজির দাম ৫০ টাকার নিচে চলে আসবে।

তিনি জানান, কেজিপ্রতি বেগুন ৫৫ থেকে ৬০, বাঁধাকপি ৬০, মুলা ৫০, মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫২, ললিত আলু ১৭ থেকে ২০, চিচিঙ্গা ৪৫, কচুর ছড়া ৫০, করলা ৪৮, বরবটি ৫০, লাউ ৩০, শসা ৩২ থেকে ৪৫ ও ঢেঁড়শ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচামরিচ ১০০ থেকে কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। রাজধানীর বাজারের চিত্রটাও প্রায় একই।