এমনি দিনে ঈদ

এম এস প্রিন্স
তুমিহীনা ব্যথা ভরা তিক্ষ্ম চোখে তবু পথের ধারে
চেয়ে কাটায়েছি দিনকে দিন আমি দিনের পরে।
আসনি তবু সান্ত্বনার বাণী আপনারে আপনি শোধাই
মাস শেষে মায়না লয়ে আসিবে আমার দেবতা গোঁসাই।
আজিতে ঠিকই- তবে কেন কলাপাতায় মোড়ে
শোয়ে ঘুমাইতেছ এই ঈদের তরে?
গগনে ওকি দেয়া চন্দ্র নিয়া বাড়ি পড়শির ছেলে পুলে
ছন্দ বানায়ে গাইছে গান নব সংগীতে দলে দলে।
হৃদয় সাগরে আরো কত তবে বিস্মৃত আমি আপনা
আমার খোকন সোনা দাঁড়ায়ে রয়েছে মনে গভীর যাতনা।
ঘুম ভাঙিয়া ওঠি
অযু করিয়া পবিত্র হও এই লও পূর্ণ জলের ঘটি।
এই সেমাই এই লুচি এই পিঠা খাইয়া লও
খাইতে খাইতে কিছু শিখিতে খোকনকে পাশে বসায়ে দ্বীনের কথা কও।
অতপর সাথে লয়ে নামায পড়িতে যাও মাঠে
যদি না যাও জীবনের এ অধ্যায় হতভাগা লিখা হবে ললাটে।
এই দিন জীবনে কভু আর আসে না কি নাহি জানি
ঘুম ভাঙিয়া নামায পড়িতে যাও ডাকি বাড়ায়ে পাণি।

আর কত ঘুমাও
চোখ খুলিয়া প্রকৃতির দিকে হাত বাড়াও
এই দিনে নতুন সূর্য নতুন আলো পল্লবিত কুঞ্জে
যে পত্রাদি নিল তার থেকে কিছু নাও আপনার মাঝে
কিছু দাও খোকনকে আর কিছু আমায় আমার তরে
কিসের কাজ বাজ কিসের কি ওসব হবে পরে।
ছুটি শেষে ফিরিবে জানি আবার মলিন হবে বসুন্ধরা
কবে আসিবে সে প্রশ্নে ছাতক ছাতকী আমার অন্তর শিরা উপশিরা
কোনো প্রশ্ন নয় কোনো কথা নয় নয় কোনো বারণ
পাশে বস আজ দুজনায় কুজন গুঞ্জন করি নীরবে ভোজন
হোক না বাসি তবু তাজা রবে জল দাও ফুলদানি ভরে
বহু দিন পরে আজ আসিয়াছ এই ঈদের তরে।

সাজন ভজন মিছে মিছে আশা এই ধরা তরে
কবরী বাঁধি নীলাম্বরী পরিব কেমনে কেমনেই-বা বোঝাই আমি আমারে?
ব্যথায় বুক ফাঁটে তবু খুলিতে হইল নাকের নথ
নাহি চায় তবু যায় তবু খোকন মাঠে যাইতে একা চালাইল রথ
কে আছে কে দেখিবে এই জীবনের ডোম
ঘুমায়েছ তুমি এ জীবনে ইহ জীবনের ঘুম।