সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক বাহিনীতে পরিণত করা হবে :প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সব ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে অত্যাধুনিক বাহিনীতে পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতুসহ উন্নয়ন প্রকল্পের ৯৮ ভাগ এখন নিজস্ব অর্থায়নে হচ্ছে। আমরা কারো দিকে তাকিয়ে থাকছি না। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৭’ উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি। ইতোমধ্যে পদ্মা সেতুর প্রথম স্টিল ট্রাস স্থাপনের মাধ্যমে উত্তাল পদ্মার বুকে স্বপ্নের সেতু দৃশ্যমান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জাতির অহঙ্কার। আমি তাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করি। আপনারা চেইন অফ কমান্ড মেনে শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতায় সর্বত্র প্রশংসিত হতে পারেন। দেশের প্রতিরক্ষা এবং দেশ গড়ার কাজে অবদান রেখে আপনাদের গৌরব সমুন্নত রাখতে পারেন পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে এই দোয়া করি। তিনি বলেন, দেশকে সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে রূপান্তর করতে পারবো। শেখ হাসিনা বলেন, সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের আত্মনিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা ফার্স্ট ট্রাক প্রকল্প গ্রহণ করেছি। গভীর সমুদ্রবন্দর, পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ প্রকল্প, মেট্রোরেল, আন্তঃদেশীয় রেল প্রকল্প এবং এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ও কর্ণফুলি নদীর তলদেশে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমুদ্র এলাকায় রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভান্ডার। সমুদ্রসীমা নিরাপদ রাখার পাশাপাশি ব্লু ইকোনমীর সর্বোচ্চ উপযোগ নিশ্চিতে সরকার ইতোমধ্যে নৌবাহিনীকে একটি ত্রিমাত্রিক বাহিনীতে রূপান্তরিত করেছে। শিগগিরই নৌবাহিনীতে উন্নত প্রযুক্তির করভেট, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফস ও এন্ট্রি সাবমেরিন ওরফেয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন হেলিকপ্টার সংযোজিত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিমান বাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও আধুনিকায়নে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমানসহ পরিবহন বিমান এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা র্যাডার সংযোজন করেছিলাম। সম্প্রতি বিমান বাহিনীতে যুক্ত করা হয়েছে এফ-৭ বিজি যুদ্ধ বিমানসহ হেলিকপ্টার ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র। সংযোজিত হয়েছে আরো নতুন ইউনিট, বৃদ্ধি পেয়েছে জনবল। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নও চলমান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু এ্যারোনটিক্যাল সেন্টার নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমান বাহিনীর যুদ্ধযান রক্ষণাবেক্ষণ এবং ওভারহোলিং সফলভাবে করে যাচ্ছে। একইভাবে সেনা বাহিনীতে আধুনিক ট্যাংকসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক অস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যা যা দরকার তা এ বাহিনীর জন্য করা হবে। শান্তি রক্ষা বাহিনীতে সেনাবাহিনীর দক্ষতা, কর্তব্যপরায়ণসহ তাদের অবদান বিশ্বে প্রশংসিত।

অনুষ্ঠানে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরার, তিন বাহিনীর সাবেক প্রধানগণ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির কেউ উপস্থিত ছিলেন না। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাকে স্বাগত জানান।

যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি ও সক্ষমতা বাংলাদেশে অর্জন করেছে

এদিকে সকালে ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৭’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা/উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাঙালি জাতি হিসেবে আমরা আজ বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছি। যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শক্তি ও সক্ষমতা আমরা অর্জন করেছি। এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি জাতি বিজয়ী জাতি এবং এ জাতি কখনো মাথা নত করে থাকবে না।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার এই গৌরবকে আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর। কিন্তু সেই হারানো গৌরব আমরা আবার ফিরিয়ে এনেছি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো তাদের ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই স্বীকৃতির মধ্যদিয়ে এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, ইতিহাসকে কখনো মুছে ফেলা যায় না এবং ইতিহাস তার স্থান একদিন ঠিকই করে নেবে। এটা এখন প্রমাণিত। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লক্ষ্য ছিল একটি দক্ষ ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা। এ বাহিনীর পেশাদারিত্ব এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃত ও প্রশংসিত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে সম্মানী চেক এবং মোবাইল ট্যাবসহ বিভিন্ন উপহার ৭ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার এবং মুক্তিযুদ্ধে সম্মাননা পদকপ্রাপ্তদের মাঝে বিতরণ করেন। ‘শান্তিকালীন’ পদক ২০১৬ বিজয়ী ১২ জন এবং ‘অসামান্য সেবা’ পদক বিজয়ী ১৪ জনসহ সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন সদস্যের মাঝে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদক বিতরণ করেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।