চিকিৎসা অবহেলায় গৃহবধু তানিয়ার মৃত্যু

পাবনা সংবাদদাতা: চার বছরের শিশু তামিম রাতেও মায়ের সাথে ঘুমিয়ে ছিল। কিন্তু সে জানেনা গতকাল বুধবার সকাল ছয়টায় তার মা তানিয়া তাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে চলে গেছে। বাবা জহিরের কোলে বসে সে শুধুই আশপাশের মানুষজনের দিকে তাকিয়ে দেখছে।

তামিমের পিতা জহির ঈশ্বরদী শহরের রেলগেইট এলাকায় ফল বিক্রির দোকান নিয়ে বসে। নিম্নবিত্ত জহির স্ত্রী তানিয়া (২৫), কন্যা মেধা (১২) ও ছেলে তামিম (৪) কে নিয়ে ঈশ্বরদী শহরের পিয়ারাখালী এলাকায় একটি বাসায় ভাড়ায় থাকেন।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে তানিয়ার পেটে ব্যথা অনুভূত হলে তাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাকে প্রথমে স্যালাইন এবং পরে বুকে ব্যথার কারণে ইনজেকশন দেয়া হয়।

কিন্তু বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় তানিয়ার মৃত্যু হয়। তার স্বামী পাশে থেকেও মনে করেছিলেন তানিয়া ঘুমিয়ে আছে। তিনি শিশু তামিমকে নিয়ে হাসপাতালের পাশে নাস্তা করাতে নিয়ে যান। ফিরে এসে তারা তানিয়াকে আর জীবিত দেখতে পায়নি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ শফিকুল ইসলাম শামিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাতে আসার কারণে রোগীনির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তবে রাতে তাকে বুকে ব্যথার জন্য দায়িত্বরত চিকিৎসক কর্তৃক একটি ওষুধ দেয়া হয়েছিল।

এদিকে তানিয়ার স্বামী জহির মনে করেন ভালভাবে ডাক্তার চিকিৎসা করলে তার স্ত্রী এভাবে মারা যেত না। তার ধারণা ভুল চিকিৎসায় তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

প্রিন্স, ঢাকা