আরিফুলের ব্যাটে খুলনার জয়

নিউজ ডেস্ক: ম্যাচটা রাজশাহী কিংসের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। ১৮ বলে ৩৬ রানের দুরূহ সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েছিল খুলনা টাইটান্স। তার পরের দৃশ্যটুকু অভাবনীয়ই বলতে হয়। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ভাষায়, পরের তিন ওভারে আরিফুলের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে খোলনলচে বদলে গেল দৃশ্যপট। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে রাজশাহীকে হতাশায় ডুবিয়ে চার বল আগে খুলনাকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন আরিফুল।

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রাজশাহীকে দুই উইকেটে পরাজিত করেছে খুলনা। সাত ম্যাচে খুলনার এটি চতুর্থ জয়। সমান ম্যাচে পঞ্চম হারের দেখা পেল রাজশাহী। এই হারে প্লে-অফের সমীকরণটা কঠিন হয়ে গেল রাজশাহীর জন্য।

প্রথমে ব্যাট করে আট উইকেটে ১৬৬ রান তোলে রাজশাহী। ১৯.২ ওভারে আট উইকেটে ১৬৮ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় খুলনা। ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংস খেলে খুলনার জয়ের নায়ক আরিফুল ম্যাচ সেরা হন।

শেষ তিন ওভারে ৩৬ রান প্রয়োজন, হাতে দুই উইকেট। খুলনা কার্যত খাদের কিনারেই ছিল। রাজশাহীর তরুণ পেসার হোসেন আলীর করা ১৮তম ওভারে আরিফুলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফিরে খুলনা। দুটি চার, এক ছক্কায় ১৮ রান তুলেন তিনি। সামির করা পরের ওভারে নেন নয় রান। ছয় বলে নয় রানের সমীকরণটা হাতের নাগালে নিয়ে আসেন ডোয়াইন স্মিথের করা প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে। দ্বিতীয় বলে স্কুপ খেলার চেষ্টা করা আরিফুলের ব্যাটে লেগে বল ফাইন লেগ দিয়ে সীমানা অতিক্রম করে।

অবিশ্বাস্য জয়ের পর রুদ্ধশ্বাসে ছুটতে থাকেন আরিফুল। ততক্ষণে ডাগআউট থেকে দৌড়ে আসা সতীর্থদের আলিঙ্গনে জয়ের উত্সবে মেতে উঠেন এ ২৫ বছর বয়সী তরুণ ক্রিকেটার। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। যদিও ১৩ রানে দুই উইকেট হারিয়ে রান তাড়া করতে নামা খুলনাকে পথ দেখিয়েছিল মাহমুদউল্লাহ-রাইলি রুশোর ৬৭ রানের জুটি। রুশো ২০ রানে ফিরলেও অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ একপ্রান্ত আগলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। দলীয় ১০৫ রানে মাহমুদউল্লাহ ৫৬ রান (৮ চার, ১ ছয়) করে বোল্ড হন। ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি আফিফ (৫), ব্রাথওয়েট (১২), নাজমুল শান্ত (৪)। পরে ১২৮ রানে আট উইকেট হারানো খুলনাকে দুরন্ত এক জয় এনে দেন আরিফুল। রাজশাহীর সামি তিনটি, ফ্রাঙ্কলিন দুটি, হোসেন আলী, মিরাজ, স্মিথ একটি করে উইকেট পান।

এর আগে টসে হেরে ব্যাট করা রাজশাহীও ২১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসেছিল। পরে স্মিথ ও মুশফিকের ৭৬ রানের জুটিতে বড় স্কোরের ভিত পায় দলটি। ৩৬ বলে ৬২ রান (৭ চার, ৪ ছয়) করেন স্মিথ। মুশফিক ফিরেন ৩৩ বলে ৫৫ রান (৪ চার, ৩ ছয়) করে। কিন্তু পরে ফ্রাঙ্কলিন ছাড়া আর কেউ থিতু না হওয়ায় রাজশাহীর স্কোরটা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। ফ্রাঙ্কলিন অপরাজিত ২৯ রান করেন। খুলনার জুনায়েদ খান ২৭ রানে চারটি, আবু জায়েদ রাহী দুটি, ব্রাথওয়েট-আফিফ একটি করে উইকেট পান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী কিংস: ১৬৬/৮, ২০ ওভার (ডোয়াইন স্মিথ ৬২, মুশফিক ৫৫, ফ্রাঙ্কলিন ২৯*; জুনায়েদ খান ৪/২৭, আবু জায়েদ রাহী ২/২৯)

খুলনা টাইটান্স: ১৬৮/৮, ১৯.২ ওভার (মাহমুদউল্লাহ ৫৬, আরিফুল ৪৩*, রুশো ২০, ব্রাথওয়েট ১২; সামি ৩/২৯, ফ্রাঙ্কলিন ২/৩০)

ফল: খুলনা টাইটান্স দুই উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: আরিফুল হক (খুলনা টাইটান্স)