খাল-বিল-ঝিল- ডোবায় মাছ ধরার মহোত্সব

নিউজ ডেস্ক: পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের খালে-বিলের পানি ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে। মাঠে দোল খাচ্ছে রোপা ও আমন। পতিত মাঠগুলো এখনো হয়ে উঠেনি আবাদের উপযোগী। এ অবস্থায় বৃহত্তর চলনবিল অঞ্চলের অল্প পানিতে মাছ শিকারের মহোত্সব শুরু হয়েছে। এলাকার বিভিন্ন খাল-বিল-ঝিল- ডোবায় বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে দল বেঁধে মাছ ধরার দৃশ্য এখন চোখে পড়ার মতো। কিশোর থেকে সব বয়সের মানুষ দল বেঁধে ধরছে নানা ধরনের মাছ।

দিনে-রাতে সুত বড়শি দিয়ে নদী থেকে ধরা হচ্ছে বোয়াল মাছ। তবে সুত বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে হলে থাকতে হবে তিক্ষ নজর। বড়শির মাথায় লাগানো থাকে ২০ থেকে ৩০ গজ লম্বা শক্ত সুতা। বড়শিতে খাদ্য গেথে ছুঁড়ে ফেলা হয় নদীর পানিতে। মাছ এসে ছুঁড়ে ফেলা সেই বড়শির খাবার খাওয়ার সময় সুতায় টান লাগে। এ সময় শিকারি বড়শির সুতো ধরে কৌশলে পাল্টা টান দিয়ে আটকিয়ে ফেলে মাছ। পরে সেই মাছ কৌশলে টেনে তোলা হয় ডাঙায়।

এ ছাড়া মাঠের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় ক্ষেতের আল জেগে উঠে আটকা পড়েছে ছোট ছোট মাছ। ছোট ছেলে মেয়েরা জেগে ওঠা জমির পানি সেচ দিয়ে ধরছে ডানকানা ও খোলসে পুঁটি মাছ। ভাগে পড়লে কই, শিং, মাগুরসহ শোইল ও বোয়াল মাছও ধরা পড়ছে আইল জাগা পানি সেচের মাধ্যমে। তবে এ অঞ্চলে পলো দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য সবারই মন কাড়ে। শত শত মানুষ সারিবদ্ধ হয়ে পলো চেপে মাছ ধরে থাকে। চলনবিল অঞ্চলে পলো দিয়ে মাছ ধরাকে বাউত ও বাইছ্যাল বলা হয়।

চাটমোহর উপজেলার ঝাকরা গ্রামের আব্দুল কাদের বলেন, ‘বাউতে গিয়ে পলো চাপিয়ে মাছ ধরার আলাদা মজা রয়েছে। পলোতে মাছ পড়লে গুড়-গুড় শব্দ হয়। তখন পলো চেপে ধরে মাছ ধরতে হয়। আগে আমরা বাউতে গিয়ে মাছ ধরে কোমরে বাঁধা হ্যাইলচায় গেঁথে রাখতাম।’ বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল গ্রামের গোলজার হোসেন বলেন, ‘বাউতে গিয়ে আগের মতো আর মাছ পাওয়া যায় না।’

কাটাখালী গ্রামের শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘খাল-বিল শুকিয়ে যাচ্ছে। ছাওয়ালপাল (ছেলে-মেয়েরা) মাছ ধরতেছে। অল্প স্বল্প মাছ খেয়ে ফেলি। আর মাছ বেশি হলি কিছু খাই আর কিছু শুঁটকি বানাই। সারা বছর হাতে বানানো শুঁটকি খাই। চাটমোহর উপজেলার বেজপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘বর্তমানে মাছ ধরার মহোত্সব দেখে মাছে-ভাতে বাঙালির প্রবাদ বাক্যটি মনে পড়ে যায়। মাছ ধরার মজাই আলাদা।’ চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বড়াইগ্রামসহ চলনবিল অধ্যুষিত উপজেলার নদী-নালা, খাল-বিলে এখন মাছ ধরার মহোত্সব শুরু হয়েছে। দল বেঁধে বাউতে মাছ ধরতে ছুটছেন বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। এ অঞ্চলে শনিবার ও মঙ্গলবার বিভিন্ন বিলে বাউত নামছে। এ ছাড়া নানা উপকরণ দিয়ে চলছে মাছ শিকার। নবান্ন উত্সবের আয়োজনের সাথে মাছ ধরার উত্সব বিলাপাড়ের মানুষকে করছে উদ্বেলিত।