সৌদি বাদশাহ হচ্ছেন যুবরাজ মোহাম্মদ!

নিউজ ডেস্ক:  আগামী সপ্তাহে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ পদত্যাগের পর সিংহাসনে বসবেন তার ছেলে ৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে এই খবর দিয়েছে ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা ‘দ্য ডেইলি মেইল’।

ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বাদশাহ সালমানের ভূমিকা হবে অনেকটা ‘ইংল্যান্ডের রাণীর’ মতো। আলঙ্কারিকভাবে ‘রাষ্ট্রের প্রধান’ ও ‘পবিত্র দুই মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। সৌদি আরব প্রতিষ্ঠার পর থেকে পবিত্র কাবা ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন দেশটির বাদশাহ। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে এই প্রথমবারের মতো বাদশাহ ছাড়া অন্য কারো হাতে মসজিদ দুটির দায়িত্ব থাকবে।

রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ ওই সূত্র পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণ ‘মেইল অনলাইনকে’ জানিয়েছে, ‘যদি অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু না ঘটে তাহলে আগামী সপ্তাহেই ছেলে এমবিএসের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বাদশাহ সালমান।’

গত মে মাসে সৌদি আরব সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ-মেইল অললাইন

সূত্র মতে, বাদশাহ হওয়ার পরপরই ইরানের সঙ্গে চলমান বিরোধে দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন মোহাম্মদ বিন সালমান। এমনকি ইসরায়েলের সহাতায় লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের পরামর্শ উপেক্ষা করে যুবরাজ মোহাম্মদ ইরান ও হিজবুল্লাহকে নিশানা করতে চাইছেন বলে জানিয়েছে ‘মেইল অনলাইন’।

সম্প্রতি দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন প্রিন্স, মন্ত্রী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিকে আটক করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের রিয়াদের একটি পাঁচতারকা হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী প্রিন্স আলওয়ালিদ বিন তালালও রয়েছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, শাসনব্যবস্থায় যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই ওই ব্যক্তিদের আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুনে ক্রাউন প্রিন্স নির্বাচিত হন মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০৩০ সালের মধ্যে তেলনির্ভরতা কাটিয়ে, পদ্ধতিগত দুর্নীতি থেকে মুক্তি ও ধর্মীয় কট্টরপন্থা থেকে একটি ‘উদার’ সমাজে দেশকে উত্তরণের প্রতিজ্ঞা করেছেন তিনি।