রংপুর সিটি নির্বাচনে শঙ্কার কারণ নেই: সিইসি

নিউজ ডেস্ক:  রংপুরে সম্প্রতি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে ভোটারদের আশস্ত করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা। একই সঙ্গে তিনি দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপিকেও আশস্ত করে বলেন, আশঙ্কার কারণ নেই। নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

রোববার নির্বাচন কমিশন ভবনে সিইসির সভাপতিত্বে রংপুর সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিয়ে বাসায় ফিরতে পারেন, সব প্রার্থী যাতে তাদের নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারেন, এজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকের কার্যপত্রে নির্বাচনে ভোট গ্রহণের আগে ও পরে মোট ৫ দিনের জন্য মোবাইল ও স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব, বিজিবি এবং পুলিশের টিম রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ১৮ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৩৩টি টিম এবং পুলিশের ১১টি টিম মোতায়েন করার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল ফোর্স হিসেবে ৩৩টি পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের টিম রাখা হচ্ছে। সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ১০ জন অস্ত্রধারীসহ মোট ২২ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১২ জন অস্ত্রধারীসহ ২৪ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া রংপুর অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ ভালো রয়েছে। কোনো ধরনের শঙ্কা নেই। এরপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচনে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা নেই। তারপরও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে হবে। সম্প্রতি সংখ্যালঘু হামলার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, রংপুর সিটি এলাকার কাছাকাছি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়তে পারে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এতে নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কার বিষয়ে সিইসি বলেন, এরকম হামলার আশঙ্কার সব সময় মাথায় থাকে। যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে এ রকম ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি বলেন, কুমিল্লায় সিটি নির্বাচনে একরকম হয়েছে, রংপুর সিটি নির্বাচনে অন্যরকম হতে পারে, আবার নাও হতে পারে। যে রকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, তেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আগামী ২২ নভেম্বর। রিটার্নিং অফিসারের তথ্য অনুযায়ী ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে ১০টি, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪৮টি ও কাউন্সিলর পদে ১৫২টি মনোনয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে।

৩৩টি সাধারণ ও ১১টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের প্রতিটিতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যদের মোবাইল ও স্টাইকিং ফোর্স থাকবে একটি করে; নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেওয়া হবে ভোটের প্রচার শুরুর পর থেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিইসি ছাড়াও চার নির্বাচন কমিশনার। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, র‌্যাবসহ আইন-শৃগ্ধখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইসির সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে অংশ নেন।