বক্তব্য শেষ হয়নি খালেদার, পরবর্তী শুনানি ২৩ নভেম্বর

নিউজ ডেস্ক:  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে ১ ঘণ্টা ৩ মিনিট বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বক্তব্য শেষ না হওয়ায় ২৩ নভেম্বর ফের আত্মপক্ষ সমর্থনের দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতের বিচারক ড. মো. আক্তারুজ্জামানের আদালতে অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন খালেদা জিয়া।

এ নিয়ে পঞ্চমদিনের মতো আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিলেন তিনি। এর আগে দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছান তিনি।

জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলা দু’টির প্রধান আসামি খালেদা জিয়া। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামি চারজন।

খালেদা ছাড়াও অভিযুক্ত অপর তিন আসামি হলেন- খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএ-এর নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ সাক্ষী। জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খান আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অন্যদিকে অরফানেজ মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট আসামি ছয়জন। অন্য পাঁচ আসামি হলেন- বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।

২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দায়ের করা হয়। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

অন্যদিকে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা করা হয়।