গাছের সঙ্গে বেঁধে শিশুকে মারধর

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে অসামাজিক কাজের অভিযোগ এনে এক শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে। আহত সোহেল মিয়া (১০) স্থানীয় এক চা দোকানের কর্মচারী।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মান্দারী এলাকায় এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। বুধবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। সোহেল সদরের কুশাখালী ইউনিয়নের হাজীগঞ্জ গ্রামের শহিদুল হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, সোহেল মান্দারী বাজারের বাবুলের চায়ের দোকানের কর্মচারী। মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে বাবুলের বাড়ি থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে আসার সময় সে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পথিমধ্যে সুপারি বাগানে যায়। এসময় সোহেলকে স্থানীয় জবি উল্যা পাটোয়ারী ও কালু পাটোয়ারী নিয়ে যায়।

তাদের গরুর সঙ্গে অসামাজিক কাজ করার অভিযোগ এনে সোহেলকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে কয়েক ঘন্টা বেঁধে রাখা হয়। এসময় তাকে থেমে থেমে লাঠিপেটা করা হয়। এক পর্যায়ে ঝাড়–পেটা করেও তার স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

বিষয়টি গোপনে মোবাইল ফোন সেটে ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় এক যুবক। খবর পেয়ে সোহেলের দোকান মালিক বাবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে ছেড়ে দিতে বলে।

এসময় জরিমানা বাবদ বাবুলের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় শিশুকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরে আহত সোহেলকে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেয় পুলিশ।

সোহেল বলে, অপবাধ দিয়ে আমাকে বেঁধে মারধর করা হয়। আমি তাদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করেও রক্ষা পাইনি।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জবি উল্যা পাটোয়ারী ও কালু পাটোয়ারী আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

মান্দারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহিম জানান, শিশুকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার খবর পেয়ে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নির্যাতিত শিশুর পরিবারকে মামলা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের আটক করতে অভিযান চলছে।

প্রিন্স, ঢাকা