দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পিছিয়ে নেই: ড. আতিউর

নিউজ ডেস্ক:  বিশ্ব অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংযুক্তি বৃদ্ধিই হতে পারে উত্তরণের পথ। কিন্তু ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, নাফটা এবং এসিয়েনভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে আছে। কাজেই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংযুক্তি বাড়ানোর জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় অান্তঃআঞ্চলিক বিনিয়োগ ব্যাপক মাত্রায় এবং যত দ্রুত সম্ভব বাড়াতে হবে।”- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। 

কাঠমান্ডুতে দশম দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলনে “আনলিশিং দি পটেনশিয়াল অফ ইন্ট্রা-রিজিওনাল ইনভেস্টমেন্ট” শিরোনামে একটি অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। তিন দিনব্যাপি এই সম্মেলন নেপালের কাঠমান্ডুতেতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভারত থেকে অধ্যাপক ইন্দ্রনীল মুখার্জি এবং নেপালের রবি শঙ্কর সাইনজু এই অধিবেশনে নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। এছাড়াও নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ এবং বাংলাদেশ থেকে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছেন।

অধ্যাপক মুখার্জি তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক যুক্ততা বাড়াতে এবং বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির যে উদ্যোগগুলো বাংলাদেশ নিয়েছে তার বিশেষ প্রশংসা করেন।

ড. আতিউর বলেন যে ভারতে মোট বিদেশী বিনিয়োগের মাত্র ১.৫ শতাংশ করেছেন দক্ষিণ এশিয় বিনিয়োগকারিরা। আর বাংলাদেশে যে ১,৬০০ বিনিয়োগ প্রকল্প রয়েছে তার মধ্যে মাত্র মাত্র ১৬৯টি দক্ষিণ এশিয় (প্রধানত ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ)। অন্য দিকে নেপালেও মোট বিদেশি বিনিয়োগের মাত্র ২৬ শতাংশ আসছে দক্ষিণ এশিয়া থেকে (প্রধানত ভারতীয় বিনিয়োগ)। তিনি আরও বলেন যে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সবগুলো দেশেই শক্তিশালী এবং বর্ধমান বাজার থাকায় এখানে অান্তঃআঞ্চলিক বিনিয়োগগুলোর অধিকাংশই আনুভূমিক বিনিয়োগ, অর্থাৎ নতুন বাজার ধরার চেষ্টায় করা বিনিয়োগ। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলোর মধ্যে উলম্বভাবে বিস্তৃত উৎপাদন প্রক্রিয়া বাড়াতে হবে ব্যাপক মাত্রায়।

“তবে দক্ষিণ এশিয়ার চিত্র খুব দ্রুতই পাল্টে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের সরকারগুলোর মধ্যে পরস্পরকে সহযোগিতা করার এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ইচ্ছা দৃশ্যমান।”- বলেন ড. আতিউর। এ সময় তিনি বাংলাদেশ, ভূটান, ভারত ও নেপালের মধ্যে সড়ক ও জল পথে যোগাযোগ বৃদ্ধির জন্য নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এই মূহুর্তে পরিবহন, বাণিজ্য সহজিকরণ এবং জ্বালানী খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন যে এসবের পাশাপাশি অান্তঃআঞ্চলিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির চেষ্টাও এখন যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল জাপান ও চীনের মতো বৃহৎ বিনিয়োগকারি দেশগুলোর পাশাপাশি কেবলমাত্র ভারতীয় বিনিয়োগকারিদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা জানান।

পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও চাহিদার কথা মাথায় রেখে সবুজ জ্বালানী এবং ই-কমার্সের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রে অন্ত:দেশীয় বিনিয়োগের দিকে মনযোগ দেয়ার কথা বলেছেন। এক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে তুলনামূলক ছোট দক্ষিণ এশিয় দেশগুলো শিক্ষা নিতে পারে। মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও ভারতের অভিজ্ঞতা অন্যদের কাজে লাগবে। অন্ত:আঞ্চলিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য যৌথ বিনিয়োগ কার্যকর হবে বলে তিনি মনে করেন। পরিশেষে তিনি সার্কের অকার্যকর হয়ে থাকার প্রেক্ষাপটে ভারতের নেতৃত্বে বিবিআইএনের আওতায় এই উপ-অঞ্চলে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির যে উদ্যোগগুলো নেয়া হয়েছে সেগুলোর প্রশংসা করেছেন।

ড. আতিউর মনে করেন ইন্দো-বাংলাদেশ গ্রীড কানেকশনের মাধ্যমে ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানী আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক প্রকল্পের আদর্শ উদাহরণ। এই উপ-অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস আরও জোরদার হলে ভবিষ্যতে নেপাল ও ভূটানও এই গ্রীডে যুক্ত হতে পারে। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলদেশকে যে ঋণ সহায়তা দেয়া হয়েছে তা রেল ও নদীপথে যোগাযোগ উন্নয়নসহ দুই দেশের মধ্যে অন্যান্য বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।