বিদেশে বসেও দেশের কথা ভাবছেন লক্ষ্মীপুরের রাসেল

 লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : পড়ালেখার পাশাপাশি অনেকেই নানা ধরনের কর্মসম্পাদন করে নিজেকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেছেন। তেমনি একজন আমেরিকান প্রবাসী বাঙ্গালি তরুণ উদ্যোক্তা গাজী রাসেল। তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে আইটি সেক্টরে ভূমিকা রেখে সুনাম কুড়িয়েছেন। আমেরিকায় বসে ভেবেই চলেছেন কীভাবে নিজের দেশকে আইটি সেক্টরে আরও সমৃদ্ধ করা যায়। বিদেশে বসেও দেশের কথা ভাবছেন; এরই মধ্যে নিয়েছেন বেশকিছু পরিকল্পনা।

এই তরুণ বাঙ্গালির পুরো নাম জি.এম. মনজুরুল করিম রাসেল। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের গাজী ফজলুল করিমের ছোট ছেলে। তাঁর বাবা লক্ষ্মীপুর পাবলিক লাইব্রেরী ও টাউন হলের সহ-সভাপতি।

রাসেলের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোট বেলা থেকেই পড়াশোনা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজে আগ্রহী ছিল। তিনি পিটিআই থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন। লক্ষ্মীপুর আদর্শ সমাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ঢাকার বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে স্কলারশিপ নিয়ে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে যান আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব নর্দান আইওয়াতে। সেখান থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে স্নাতক শেষ করেন। পাশাপাশি একই প্রতিষ্ঠানে ম্যাথম্যাটিকস ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়কে মাইনর হিসেবে নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।

এর পাশাপাাশি সময়েই শুরু করেন ফানফুড (ঋঁহঋড়ড়ফ) নামে ফুড সাপ্লাই কোম্পানি। নিজের তৈরি একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে খেলার মাঠে দর্শকদের খাবারের অর্ডার নেওয়া এবং সহজে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেন। খুব অল্প সময়েই বেশ সাড়া পান এই কাজে।

এরপর এই অ্যাপ্লিকেশন বিক্রি করে দেন অন্য একটি কোম্পানির কাছে। ২০১৬ সালে শুরু করেন সিভি ফুড রানার (ঈঠ ঋড়ড়ফ জঁহহবৎ) নামে একটি ফুড ডেলিভারি অ্যাপ্লিকেশন ও সার্ভিস। যার মাধ্যমে খাবার অর্ডার নেওয়া ও পৌঁছে দেওয়া শুরু করেন। তাঁর এসব সাফল্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কাজে সম্পৃক্ত থাকায় পেয়েছেন ইউএনআই লাক্স অ্যাওয়ার্ড।

বর্তমানে রাসেল ইউনিভার্সিটি অব নর্দান আইওয়াতে প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ফোর এক্সিস আইটি নামে একটি আইটি সলিউশন তেরি করেছেন রাসেল। আমেরিকা ছাড়াও বাংলাদেশে ফোর এক্সিস আইটি লিমিটেড নামে ঢাকার মিরপুর ডিওএইচএসে একটি শাখা চালু করেন। যেখানে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট এবং লোকাল ও গ্লোবাল মার্কেটে কাজ করা হচ্ছে।

জিএম মঞ্জুরুল করিম রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘কাজ করতে গিয়ে যে ভুল করিনি তা নয়। ভুল করতে করতেই শিখেছি। আমেরিকায় এসে আমি কোনো বাঙালিকে সঙ্গে পায়নি। তবে আমার মেন্টরদের সহায়তায় খুব কম সময়ে অনেক কিছু করার সুযোগ পেয়েছি।’ আমার স্বপ্ন দেশের আইটি সেক্টরে কাজ করে দেশের এক বৃহৎ অংশকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার। সে লক্ষ্যেই কাজ করছেন বলে জানান এই তরুণ।

রাসেলের বাবা গাজী ফজলুল করিম বলেন, আমার ছেলে আইটি সেক্টরে কাজ করে দেশের গৌরব অর্জনে কাজ করছে। এর পাশাপাশি নিজ জেলা লক্ষ্মীপুরকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরছেন। এতে আমি খুবই আনন্দিত। সে যেন তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে সেজন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

প্রিন্স, ঢাকা