ভারতে প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন বিষয়ক ৫ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলন

নিউজ ডেস্ক : “ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগগুলোর সাফল্য বহুলাংশে নির্ভর করে আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণকরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত ভূমিকার ওপর। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাগুলো সারা বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।”- বলেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আতিউর রহমান। সম্প্রতি ভারতের জয়পুরে ‘প্রতিযোগিতা, নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন বিষয়ক ৫ম দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে’র একটি অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্য রাখার সময় তিনি একথা বলেছেন।

তিনদিন ব্যাপি এই কম্মেলনের সহ-আয়োজক কাটস ইন্টারন্যাশনালএবং ওইসিডি। অধিবেশনে অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন- মাস্টারকার্ডের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাভিন্দার এস. অরোরা, কেনিয়ান কম্পিটিশন অথরিটির প্রতিনিধি ডেভিড অঙ্গোলো, এবং ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ. কে. এনামুল হক।

বিশ্বের অনেক উন্নয়নশিল দেশ ব্যাপকভিত্তিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে সর্বশেষ আর্থিক মন্দা থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। আর এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বিশেষ সহায়ক হয়েছে বলে ড. আতিউর অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন আর্থিক সেবাদানকারিদের গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের কাছে সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য বিশেষ উদ্যোগি হতে হবে। আর এ জন্য যারা এক্ষেত্রে ইতোমধ্যেই কিছু সাফল্য অর্জন করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে হবে, লক্ষ্য অর্জনের পথে চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করতে হবে, এজন্য কাদের সঙ্গে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা যায় সে সম্ভাবনাগুলো যাচাই করতে হবে, এবং সর্বোপরি এমন আইনি ও নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে হবে যা উদ্ভাবনীমূলক উদ্যোগকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুরো আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের দিকেও নজর রাখবে।

ড. আতিউর আরও বলেন যে ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভূক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাগুলো অন্যদের জন্য শিক্ষামূলক হতে পারে। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্ষেত্রে শুরু থেকেই ‘ব্যাংক নির্ভর ডিজিটাল সেবা’কে উৎসাহিত ও সহায়তা করেছে। মোবইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস হোক কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিং হোক বাংলাদেশ ব্যাংক সব সময়ই চেয়েছে যেন প্রথাগত সেবাদাতারাই (অর্থাং বাণিজ্যিক ব্যাংক) যেন এই উদ্যোগগুলোতে নেতৃত্বের জায়গায় থাকেন। এবং এই কৌশল খুবই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

ড. আতিউর বলেন যে আমরা বর্তমানে ডিজিটাল আর্থিক অন্তভূক্তির শুরুর দিকটি প্রতক্ষ করছি। কাজেই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা থেকে শিখতে হবে, এবং একে অন্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই কেবল আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য মান এবং অনুশীলনের নীতিমালা দাঁড় করাতে পারবো। পরিশেষে তিনি সকল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা আরও উদ্যোগি হয়ে অপ্রথাগত আর্থিক সেবাদানকারিদের সাথেও একসাথে কাজ করে। প্রথাগত সেবাদানকারিদের পাশাপাশি অপ্রথাকগত সেবাদানকরিদের সাথে কাজ করে আরও কার্যকর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক যে গ্রিভেন্স রিড্রেসাল মেকানিজম দাঁড় করিয়েছে সেটির কার্যকারিতা নিয়েও অধিবেশনে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আলোচকরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টিকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো আর্থিক খাতের ডিজিটাইজেশনের যে উদ্যোগগুলো নিয়েছে সেগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।