এই সময়ে শিশুর সর্দি-জ্বর

নিউজ ডেস্ক: প্রকৃতিতে হামাগুড়ি দিয়ে শীত আসছে। গরম ছেড়ে একটু একটু ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই সময় যে কেউ সর্দি,কাশি কিংবা জ্বরে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশুদের যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এসময়টায় তাই শিশুদের বাড়তি যত্ন নেয়া জরুরি।

এসময় শিশুরা সাধারনত সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর এসবে আক্রান্ত হয়। সাধারন ফ্লু হলে চিন্তার কিছু নেই। ঘরোয়া চিকিৎসাতেই তা সেরে ওঠে। উন্নত দেশগুলোতে শীত শুরুর আগে ফ্লু থেকে বাঁচতে চার বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ভ্যাক্সিন দেয়া হয়। তবে আমাদের দেশে এ ধরনের ভ্যাক্সিন দেয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

অনেকে আছেন বাইরে থেকে এসেই শিশুদের কোলে নেন, আদর করেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইরে থেকে ফিরে হাত ভাল করে পরিষ্কার করে তবেই শিশুদের আদর করা উচিত। কারণ বাইরে থেকে নিয়ে আসা ভাইরাস বড়দের মাধ্যমে শিশুদের শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। শিশুদেরও বাইরে থেকে ফিরে হাত ভালভাবে পরিষ্কার করা উচিত। এছাড়া অন্য কোন ভাইবোন ফ্লুতে আক্রান্ত হলে সুস্থ শিশুটির তার থেকে দূরে থাকা উচিত।

সর্দিতে আক্রান্ত হলে বারবার শিশুর নাক বন্ধ হয়ে যায়। তখন সে অস্বস্তি বোধ করে। এসময় শিশুদের জন্য স্যালাইন নাকের ড্রপ ব্যবহার করা উচিত।

জ্বর হলে প্রাথমিকভাবে স্পঞ্জিং করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রেই পুরো শরীর ভেজা নরম কাপড় বা তোয়ালে দিয়ে একটানা কয়েকবার আলতো করে মুছে দিলে শরীরের তাপমাত্রা কমে যায় । এ কাজে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে।

এছাড়া জ্বরে আক্রান্ত হলে শিশুটিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। যত বেশি পরিমানে সে বিশ্রাম নেবে ততই সে সুস্থ বোধ করবে। ফ্লুতে আক্রান্ত শিশুদের প্রচুর পরিমানে লিকুইড খাওয়াতে হবে। যেসব শিশু জ্বর বা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয় কিংবা বারবার বমি করে তাদের জন্য লিকুইড খাবার খুবই জরুরি। এসময় শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমানে পানি, ফলের জুস অথবা স্যুপ খাওয়া দরকার। তা না হলে তারা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

কোন শিশুর জ্বর যদি ৭২ ঘন্টার বেশি ১০১ ডিগ্রী ফারেনহাইটের বেশি থাকে, বুকে অথবা শরীরের কোথাও অস্বাভাবিক ব্যথা , শ্বাস নিতে কষ্ট , বেশিমাত্রায় বমি , প্রসাবের পরিমান অত্যাধিক কম বা বেশি হয় কিংবা শরীরের কোথাও র‌্যাশ দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নেয়া উচিত।