আখাউড়ায় ১মাসে শিক্ষার্থীসহ আত্মহত্যা ৪

ব্রাক্ষণবাড়িয়া প্রতিনিধি: আখাউড়ায় গত এক মাসে ২শিক্ষার্থীসহ ৪ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। পৌর এলাকার রাধানগর, টেংড়া পাড়া, তারগন ও উপজেলা ধরখার এলাকায় পৃথক স্থানে এ ৪ টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত ৪ জনের মধ্যে ২ জন কীটনাশক পানে ও দুজন পলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পারিবারিক কলহের জের ধরেই এসব আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর রাতে আখাউড়া পৌর শহরের তারাগন পশ্চিম পাড়া এলাকার মো. জসিম মিয়ার মেয়ে তাসলিমা আক্তার তানিয়া (১৫) মায়ের সাথে অভিমান করে কীটনাশন পানে আত্মহত্যা করে। তানিয়া নাছরীন নবী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজের ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।

বেশ কয়েক দিন ধরে তাসলিমা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে উঠে। কিন্তু পড়াশুনা একেবারে করছেনা। হাতে মোবাইল ফোন থাকায় পড়া লেখায় ক্ষতি হওয়ায় মা বিষয়টি বুঝতে পেরে তার কাছ থেকে ফোনটি এক পর্যায়ে নিয়ে যায়। এতে সে অভিমান করে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষপান করে। পরিবারের লোকজন বুঝতে পেরে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে সেখান থেকে ব্রাক্ষনবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাতে তার অবস্থা অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রুটি গ্রামে তোফাজ্জল হোসেন (১৬) নামে এক কিশোর কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে। নিহত ওই কিশোর রুটি গ্রামের মো. মনা মিয়ার পুত্র।

পরিবারের লোকজন জানায়,সে কিছুটা মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল । দুপুরে সে কীটনাশক পান করলে অসুস্থ হয়ে ঘরে ছটপট করতে থাকে। এসময় লোকজন দেখে তাকে দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, ধারনা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জেড় ধরেই সে বিষপান করেছে।

এদিকে গত ১৩ অক্টোবর রাতে পৌর এলাকার টেংড়া পাড়ায় ইনজাম দাস (৪৫) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। নিহত ব্যক্তি হলো টেংড়া পাড়ার প্রভাব দাসের পুত্র।

নিহতের পরিবার জানায়, রাতের খাবার খেয়ে ইনজাম দাস আলাদা একটি ঘরে ঘুমাতে যান। সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে ডাকাডাকি করে। কোন সারা শব্দ না পেয়ে এক পর্যায়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে তার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে পুলিশ এসে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে। ইনজাম দাসের এক স্ত্রী ও ৪ ছেলে সন্তান রয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর আখাউড়া পৌর শহরের রাধানগরে সাবিকুন্নাহার (১৭) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সাবিকুন্নাহার রাধানগরের মো. আবুল কাশেমের কন্যা ও স্থানীয় একটি কলেজের এইচএসসির ২য় বর্ষের ছাত্রী।

প্রতিদিনের ন্যায় সাবিকুন্নাহার রাতের খাবার খেয়ে রুমের দরজা বন্ধ করে ঘুমাতে যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে ডাকাডাকি করে কোন সারা শব্দ না পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সাথে উড়না পেচানো অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। সূত্র জানায় মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের লোকজন এতে বাধা দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটে।

খরমপুর শাহপীর কল্লা শহীদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন বর্তমানে মোবাইল ফোনের অপব্যহার বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিপদগামী হচ্ছে। সেইসাথে পারিবারিক কলহ বাড়ছে। এজন্য সকলকে সরচতন থাকতে হতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

আখাউড়া সচেতন নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মুসলেহ উদ্দিন ভূইয়া বলেন আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন ও মোবাইল ফোনের অপব্যহারে সমাজ কুলশিক হয়ে উঠছে। অভিভাবকসহ প্রতিটি মানুষক সচেতন হলে কোন অঘটন ঘটবেনা বলে তিনি মনে করেন।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদার বলেন আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। কি কারনে তারা আত্মহত্যা করেছে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রিন্স, ঢাকা