জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা বিধান অপরিহার্য: রাষ্ট্রপতি

নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সামুদ্রিক সম্পদ ও সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনীর সদস্যদের সদা সতর্ক থাকতে হবে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনায় নৌঘাঁটি বানৌজা তিতুমীরের নেভাল বার্থে যুদ্ধজাহাজ দুর্গম ও নিশান এবং সাবমেরিন টাগ পশুর ও হালদার আনুষ্ঠানিক কমিশনিং অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি খুলনায় নৌঘাঁটি বানৌজা তিতুমীরে পৌঁছলে নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং কমডোর কমান্ডিং খুলনার কমডোর সামসুল আলম তাকে অভ্যর্থনা জানান।রাষ্ট্রপতি বলেন, সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখা, চোরাচালান ও জলদস্যু দমন এবং জাহাজ চলাচলে ব্যবহৃত সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদাসতর্ক থাকতে হবে। তিনি সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আপনাদের সততা, নিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, কর্মদক্ষতা ও উঁচুমানের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে সর্বাত্মক প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।

আবদুল হামিদ বলেন, ক্রমাগত সম্পদ আহরণের ফলে স্থলভাগের সম্পদ সীমিত হয়ে পড়ায় সারা বিশ্বের নজর আজ সমুদ্র সম্পদের দিকে। সমুদ্রপথে বাণিজ্য পরিচালনা ছাড়াও সমুদ্রসীমা নির্ধারণের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের বিশাল সামুদ্রিক এলাকায় রয়েছে মৎস্য, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যান্য খনিজ পদার্থসহ মূল্যবান সম্পদ। এ ছাড়া রয়েছে ৭১০ কিমি. দীর্ঘ উপকূল এলাকা, যেখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রায় তিন কোটি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছেন। বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রপথেই পরিচালিত হয়। এ জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা বিধান অপরিহার্য।

রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক আবদুল হামিদ আরও বলেন, দেশের সামরিক কার্যক্রমে নবঅধ্যায়ের সূচনায় বর্তমান সরকার নৌবাহিনীবহরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, মেরিন এয়ারক্রাফট ও পেট্রল ক্রাফট সংযোজন করেছে।

 

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যুদ্ধের পর প্রায় শূন্য থেকে যে নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় আজ তা একটি পেশাদার ও বহুমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বিশাল সমুদ্র আপনাদের কর্মক্ষেত্র। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সামুদ্রিক সম্পদের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। এ ছাড়া আগামী দিনে জাহাজ রপ্তানির মাধ্যমে খুলনা শিপইয়ার্ডসহ দেশের বিভিন্ন শিপইয়ার্ড আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন।রাষ্ট্রপতি ভাষণের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, বিশেষ করে নৌবাহিনীর শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে নিশান, দুর্গম, হালদা ও পশুর এই ৪টি যুদ্ধজাহাজ নৌবাহিনীকে হস্তান্তর করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সেনাবাহিনীপ্রধান আবু বেলাল মুহাম্মাদ শফিউল হক, নৌবাহিনীপ্রধান অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, রাষ্ট্রপতির সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ, জ্যেষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।