অসমাপ্ত গল্প

এম এস প্রিন্স

বলে নাই খোদা হিন্দু মুসলীম বৌদ্ধ খ্রিস্টান বা আর
বলিয়াছে একনাম মানুষ সৃষ্টি করি পাঠায়েছি জগতে আমার
আমার মোহ ছায়া তলে থাকি এই ধরা তর
সাজায়ে গুছায়ে করিবে সর্ব গ্রহ উপগ্রহের চেয়ে সুন্দর।

হায় পূজারী সৃষ্টি চাই
এই পণে মানুষেরা বুকে টানি নিল ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির ধাই।
এজন্যে এত কীর্তি এত জয়োগান, তিক্ষ্ণ চোখ মেলে
নীরবে তাই লিখে কবি বসি খড়কুঠোর ছাউনি তলে।
আসেনা কবিতায় সব, কত জানা অজানা গোপনেই রয়
তবু তা থেকে দু’খানা লাইন নিয়া নিশ্চয়
প্রিয়বাসীর আশে প্রিয় যায় চিঠি লিখি চলে বকুল তলায়
আরো মধুময় করিতে তা কত সোনা-দানা ময়ুর পক্ষীও আসি সুর মিলায়।
দেশে দেশে রণে সবি ধ্বংসাযজ্ঞে স্বীয় ঘরেও কভু আড়ি
প্রিয়েরে দিতে তবু প্রিয়বাসী চলে রোমালে বাহারি নকশি করি।
এই দৃশ্য দেখি গীতিকবি আপনিই গেয়েওঠে নিজ থেকে গীত রচে
অভিনেতা ভাবিয়া মরে তার প্রাণ দিবে বলি অভিনয়ের কোন ধাচে?
দিবস-রজনী বিজ্ঞানী আবিষ্কারে বিভোর
তার যোগ্য ব্যবহারে কৃষক শ্রমিক ধরি রাখিয়াছে জীবনের নূর।
শিকারী শিকারে চলে মাঠে গরু ছড়ায়ে রাখাল
বাঁশির সুরে বলিয়া বেড়ায় আপনার জীবনের হাল।
তা না বুঝিয়া মধুর সুর শুনি
মেলা কাঁথায় সুঁই সুতোয় বুকের স্বপন বুনা ভুলিয়া জানি
বধুয়া বারান্দার খুঁটি ধরিয়া দাঁড়ায়ে কয়-
‘সাধ্য থাকিত যদি এমনে গান গাহিয়া ভরিতাম হৃদয়।’
গভীরের ভাষা বুঝিয়া দেবর আসি- ‘কপলে দিয়া ফোঁটা
বাখারিচুনে শক্ত করিলাম দিলাম শনির ললাটে ঝাঁটা।’
বলিয়া ফিরিয়া চলে,
জীবনের চাহিদা মিঠাতে ব্যস্ত জহরি আপনার কর্মস্থলে।
ঘটা বাক্যের বলিবে কিছু দেখিয়াছে যা এই ইহকাল
সে জু নাহি তরিখানির ছেঁড়া পাল।
সংসারে কতজনা মুখ চাহিয়া রয়েছে নিরুপায়ে
তাহাদের জীবন প্রদীপ রাখিতে হবে জ্বালায়ে।
তারিপরে যোগ্য করি মাথায় দিব এমন কর্মভার
আমার মত যারা দেখিয়াই যেন করে ছেলে পুলেরে নমস্কার।
হাসিয়া অভিবাবক বলে;
ইটের শ্রমিক ভাটা সাজায় কাঠুরিয়া জঙ্গলে চলে।
বৈঠাখানি মাঝি পাণিতে লয়
জাল কাঁধে জেলে জলের সাথে পীরিতের কথা কয়।
পরিবেশক পরিবেশের গানে
আধার কুড়াইতে পাখি পালক ঘুরে বনে বনে।
যাযাবর বেশে সাপুরে ছুটে চলে দেশে দেশে জীবন জয়োরথে
সুন্দরের আশে অবণী মাঝে এই যে মানুষ প্রভাত বেলা হতে
বিচিত্র কার্যে নিজেকে নিয়োজিত করি ভিন্ন ভিন্ন গল্প লিখি
নিজ হাতে দিনে দিনে তা’র লাইন বাড়ায়ে চলিছে ঠিকই।
বিধাতার নিয়মে কেবল ব্যক্তির পতন হয়
গল্পের ধারা যে নিয়মে চলিতেছে চলিবেই কভু শেষ হবার নয়।
তবে শেষ হ’বে সেইদিন
বাজিয়া ওঠিবে যেইদিন পৃথিবীর ধ্বংসের বীণ।