প্রথম মিশন ব্যর্থ হওয়ায় পাল্টানো হয় পরিকল্পনা

নিউজ ডেস্ক: জামিল শেখকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তিন মাস আগে। মুখে বালিশ চেপে হত্যার পর লাশ টয়লেটে রেখে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, এমন নাটক সাজানোর পরিকল্পনা করেছিল স্ত্রী আরজিনা ও তার পরকীয়া প্রেমিক শাহীন মল্লিক।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই সাখওয়াত হোসেন জানান, কোয়াজ ও মাসুমার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত সূত্র জানায়, তিন মাস আগে জামিলকে হত্যার পরিকল্পনা করে শাহীন ও আরজিনা। ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। আরজিনা ও শাহীন তাকে হত্যা করতে পারবে না ভেবে কোয়াজকে ভাড়া করা হয়। কোয়াজ আলী বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স নামে একটি স্যানিটারি দোকানের কর্মচারী। তার গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে। থাকে উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগে। ক’বছর ধরে শাহীনের সঙ্গে কোয়াজের বন্ধুত্বের সম্পর্ক। জামিলকে হত্যার বিনিময়ে কোয়াজকে ব্যবসা করার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখায় শাহীন। এ প্রলোভনে সে রাজি হয়। গত বুধবার রাতে করলার তরকারির সঙ্গে জামিলকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় আরজিনা। রাত ১১টার পরপরই মোবাইল ফোনে কোয়াজকে ডেকে পাঠায় শাহীন। সে আসার পর আরজিনা ঘরের দরজা খুলে দিলে শাহীন ও কোয়াজ প্রবেশ করে। তিনজন মিলে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে আরজিনার সহায়তায় শাহীন কাঠ দিয়ে মাথায় আঘাত করে জামিলকে হত্যা করে। দেখে ফেলায় মেয়ে নুসরাতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ‘ডাকাত নাটক’ সাজায় আরজিনা। ডাকাতরা ঘরে প্রবেশ করে স্বামী ও মেয়েকে হত্যা করেছে বলে জানায়। তবে পুলিশের জেরার মুখে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে।