আয়কর মেলায় ব্যাপক সাড়া

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শুরু হওয়া সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলায় করদাতাদের বিপুল সাড়া মিলছে। বিশেষ করে সরকারি ছুটি শুক্র ও শনিবার মেলায় করদাতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। কেউ আসছেন মেলা দেখতে; কেউ আসছেন কর বিবরণী জমা দিতে, কেউ আসছেন ই-টিআইএন খোলার জন্য; আবার কেউ আসছেন ভবিষ্যৎ করদাতা হিসেবে কর শিক্ষণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। মেলায় এক ছাদের নিচে সব ধরনের সেবা মিলছে। বিনামূল্যে কর বিবরণীর ফরম পাওয়া যাচ্ছে। আর আইনজীবীর সহায়তা ছাড়াই এনবিআরের হেল্পডেস্কের সহায়তায় সাধারণ করদাতারা নিজেরাই নিজের বিবরণী তৈরি করছেন। মেলা প্রাঙ্গণেই ব্যাংকের বুথে টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ মিলছে। এসব সেবা পাওয়ায় করদাতারা খুশি। ফলে এক ধরনের উৎসবে পরিণত হয়েছে জাতীয় আয়কর মেলা।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এবার মেলার বাড়তি আকর্ষণ করদাতাদের ট্যাক্স আইডি কার্ড। এটির জন্য বেশ লম্বা লাইন দিয়েই এ কার্ড নিচ্ছেন করদাতারা।

মেলার ১২ নম্বর কর অঞ্চলের একটি বুথে দেখা যায় করদাতাদের বেশ লম্বা লাইন। লাইনে দাঁড়িয়ে বিবরণী জমা দিলেও খুশি করদাতারা।

১ নভেম্বর শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে ৭ দিন, ৫৬টি জেলা শহরে ৪ দিন, ৩৪টি উপজেলায় ২ দিন এবং ৭১টি উপজেলায় ১ দিনের ভ্রাম্যমাণ আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

২০১০ সালে প্রথমবারের মতো করদাতাদের উৎসাহ এবং ভয় দূর করতে আয়কর মেলার আয়োজন করে এনবিআর। আলোচ্য সময়ে আয়কর মেলা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রতিবছরই আয়কর মেলার বিস্তৃতি বাড়ছে। এবারের মেলায় দ্বিতীয়বারের মতো ই-ফাইলের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর বিবরণী দেওয়া যাবে। মেলায় আয়কর ছাড়াও শুল্ক বিভাগ, ভ্যাট বিভাগ, ট্যাক্স ট্রাইব্যুনাল, শুল্ক ও মূসক ট্রাইব্যুনাল, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আলাদা আলাদা বুথ রয়েছে।

মেলার প্রধান সমন্বয়কারী এনবিআরের সদস্য আবদুর রাজ্জাক সোমবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মেলায় করদাতাদের আয়কর রিটার্ন জমাসহ কর সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বরাবরের মতো এবারও মেলায় করদাতাদের সব ধরনের তথ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। মেলায় ই-টিআইএন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা, রিটার্ন দাখিল করা, ই- পেমেন্ট কর পরিশোধের সুযোগ

রয়েছে। এবারও বয়স্ক নাগরিক, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা বুথ রয়েছে।

জানা গেছে, গত তিন দিনে মোট ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৩১ জন কর সেবা নিয়েছেন। আর কর বিবরণী জমা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৪টি আর তিন দিনে মোট ৯৮৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে।

মন্ত্রীরাও মেলায় কর বিবরণী জমা দিচ্ছেন, মেলায় বাড়তি আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন মন্ত্রী, এমপি ও বিশেষ ব্যক্তিরাও মেলায় কর বিবরণী জমা দিচ্ছেন। মেলার দ্বিতীয় দিন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, কাজী রোজী এমপি, বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার মেলায় অংশ নেন।