সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য চার পদে কে কে বসবে

নিউজ ডেস্ক: কারা আসছেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য চার পদে? এ নিয়ে দলটির ভেতর-বাইরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কমিটি ঘোষণার সময় শূন্য রাখা দুটি পদের সঙ্গে দু’জন নেতার মৃত্যুতে নতুন করে শূন্য হয় আরও দুটি পদ।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানসহ ৬ নেতার নাম বেশি আলোচিত হচ্ছে। অন্যরা হলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সেলিমা রহমান ও অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এক বছর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহের মৃত্যুর পর শূন্য পদ পূরণ করা হয়নি। সম্প্রতি স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য এম কে আনোয়ারের মৃত্যুতে আরও একটি পদ শূন্য হলে নড়েচড়ে বসছেন দলের নেতারা। ভেতরে-ভেতরে চলছে তদবির-লবিংও। তারা সবাই খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।

ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের ভূমিকা মূল্যায়ন করে স্থায়ী কমিটির পদ দেওয়ার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিএনপির কট্টরপন্থি একটি অংশ। আবার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ওয়ান-ইলেভেনের মতো খালেদা জিয়ার সঙ্গে যাদের থাকার সম্ভাবনা কম তাদের স্থায়ী কমিটিতে স্থান না দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। অন্যদিকে অতীতে ছোটোখাটো কিছু ভুলত্রুটি থাকলেও দলের প্রবীণ ও যোগ্য নেতাদেরই যথাযথ মূল্যায়ন করে গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলো দেওয়ার পক্ষে উদারপন্থি নেতার।

সম্প্রতি লন্ডন সফরকালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও স্থায়ী কমিটির শূন্য পদ পূরণের ব্যাপারে মতবিনিময় করেছেন বিএনপিপ্রধান। শিগগির দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে খালেদা জিয়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদগুলো যোগ্য নেতাদের মধ্য থেকে পূরণ করবেন দলের হাইকমান্ড। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছেন, কবে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে, তা এ মুহূর্তে বলা যাবে না। দলের হাইকমান্ড উপযুক্ত সময়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এ ব্যাপারে অভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন।

আলোচনার শীর্ষে ডা. জোবাইদা রহমান: বিএনপির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হতে পারেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে নির্বাচনে অযোগ্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। তারা খালেদা জিয়ার বার্ধক্যজনিত কিছু সমস্যার কথা ভেবে ডা. জোবাইদাকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনতে আগ্রহী। ডা. জোবাইদাকে আগামী নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করতে পারেন বিএনপি হাইকমান্ড। সিলেটের পৈতৃক এলাকা, বগুড়া বা ঢাকার যেকোনো একটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রার্থী করতে পারেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি নেতাদের মতে, গত বছরের ৮ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ডা. জোবাইদা রহমান সম্পর্কে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ডা. জোবাইদা রহমান বিএনপির রাজনীতিতে এলে ভালো হবে। জোবাইদা উচ্চশিক্ষিত, ভালো বংশের মেয়ে এবং তিনি যদি রাজনীতিতে আসেন তাহলে ভালো করবেন।’ এসব হিসাব-নিকাশ কষে বিএনপির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে জোবাইদাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করে রাজনীতিতে হাতেখড়ির উদ্যোগ নিতে পারেন দলের হাইকমান্ড।

নোমানের মনোকষ্ট দূর হবে?: সূত্র জানায়, স্থায়ী কমিটিতে ঠাঁই না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে মনোক্ষুণ্ণ আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি রাজনীতিতে নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। নিজ নামের আগে দলীয় পদ হিসেবে ‘কর্মী’ ব্যবহার করেছেন। রাজনীতিতে তার ‘জুনিয়রদের’ স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় তার কষ্ট বেশি বলে জানিয়েছেন ঘনিষ্ঠদের। দলীয় নেতাকর্মীদের অনেকে দক্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে নোমানকে শূন্য পদে দেখতে চান।

ভারসাম্য আনতে খোকা: সূত্র জানায়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর রাজনীতিতে ভারসাম্য আনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সাদেক হোসেন খোকার স্থায়ী কমিটিতে থাকা উচিত বলে মনে করেন দলের অনেক নেতাকর্মী। মহানগর রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাসকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করায় কিছুটা মনোক্ষুণ্ণ হন খোকা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তিনি লন্ডনে। তার অনুসারীরাও এখন কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।

কমিটির সদস্য যারা: বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্থায়ী কমিটির প্রথম সদস্য। তিনি ছাড়া অন্যরা হলেন- তারেক রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাউদ্দিন আহমেদ। ২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ১৩ সদস্যের স্থায়ী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৯-এ উন্নীত করা হয়।