ট্রাম্পের পূর্বপুরুষ নরখাদক!

নিউজ ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব পুরুষ ছিল নরভূক (মানুষখেকো) রাক্ষস সম্প্রদায়ের। এমন তথ্য দ্যা মিরর অনলাইনের এক গবেষণায় উঠে আসছে। জানি না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিররের এই খবর কীভাবে নেবেন। তবে এবারের হ্যালোইনে ট্রাম্পকে এটাই নিবেদন করেছেন এক মার্কিন অধ্যাপক।

মিরর অনলাইনের মতে ষোড়শ শতকের একটি গল্পে পিটার স্টাম্প নামে একটি চরিত্র আছে। পিটার স্টাম্পের অন্য নাম হচ্ছে ওয়ারউলফ অব বেডবার্গ। এই নাম দেয়া হয়েছে কারণ পিটার স্টাম্প মানুষ থেকে নেকড়েতে রূপান্তর হোন। হত্যা করেন সবাইকে।

ইতিহাসে আছে স্টাম্প ১৩ শিশু ও ২ জন গর্ভবতী নারী হত্যার জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে  মৃত্যুদন্ড পান।হত্যার আগে স্টাম্প মৃত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কাচা খেতেন। সে এতটা নৃশংস ছিল যে নিজের ছেলের মস্ত্কি পর্যন্ত খেয়ে তাকে হত্যা করেন।

ট্রাম্পের পিতামহ ফ্রেডরিক ট্রাম্প

গরু ছাগল পর্যন্ত রেহাই পায়নি তার হাত থেকে। পশুদের ক্ষত বিক্ষত করে নিজের ভোগে আনতেন তিনি। ১৫৮৯ সালে স্টাম্পকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। এই হলো স্টাম্প কে নিয়ে মাইথোলজি। যা ব্রিটেনের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

ড. কেভিন পিটাল নামের এক নৃতত্ত্ববিদ এই কাহিনী নিয়ে পুনরায় গবেষণা করেন। কেভিন দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিয়োলা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।

গবেষণা করতে গিয়ে তিনি নতুন তথ্য পান। যেখানে বলা হয়, স্টাম্পকে একাই সেদিন ফাঁসিতে ঝোলানো হয়নি। তার সঙ্গে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল তার প্রেমিক ক্যাথরিন ট্রাম্পকে। এই ক্যাথরিনা ট্রাম্প নরখাদক স্টাম্পকে সব অপকর্মে সহযোগিতা করেছিল।

ক্যাথরিনা ট্রাম্পের নাম শুনে ড. পিটলে ক্যাথরিনাকে নিয়ে ঘাটাঘাটি করেন। কারণ বর্তমান প্রেসিডেন্টে সঙ্গে তার নামের মিল খুঁজে পান। আগ্রহ হয় এ নিয়ে গবেষণা করতে।

ড. পিটলে তার দলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাদের বিশ্বাস ক্যাথরিনা ট্রাম্পের পূর্ব পুরুষের সামাজিক অবস্থান অনুসরণ করে বের করতে পারলে সেটা বর্তমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে যেতে পারে।

ট্রাম্পের ঠাকুরদাদা ফ্রেডরিক জন্ম নিয়েছিলেন জার্মানির ক্যালস্টাডটে। গ্রামটি ফ্রাঙ্কফুর্ট শহর থেকে ৬০ মাইল দূরে দক্ষিণে।প্রসঙ্গত ট্রাম্পের দাদার পরিবার ১৮৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নেয়। তখন তারা দাদা তরুণ ছিলেন। 

ওয়ারউলফ লেখা বইয়ের পৃষ্ঠা

দাদা ফ্রেডরিকের ঘরে জন্ম নেয় দুই ছেলে সন্তান। যাদের নাম জন ও ফ্রেড। তারা দুজনই সফল ব্যবসায়ী ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদেরই উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পান।  

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ট্রাম্প ও তার বাবা ফ্রেড দুজনই নিজেদের জার্মান হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জা পেতেন। তারা সবার কাছে নিজেদের সুইডিশ হিসেবে পরিচয় দিতেন। জার্মানিতে ট্রাম্পের দাদার আত্মীয় স্বজনদের কবর আছে। এবং সেগুলো সেই ক্যালস্টাডটে।

ওয়ারউলফ গল্পের নরখাদক পিটার স্টাম্পকে কোলন শহর সংলগ্ন বেডবার্গের বাসিন্দা বলে মনে করা হয়। কিন্তু এ ধরনের কোনো তথ্য প্রমাণ কারো কাছে নেই। সম্ভবত সেগুলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে। তারপর ধরে নেয়া হয় এই ওয়ারউলফ গল্পটা জার্মানির অন্য কোনো শহরকে কেন্দ্র করে হয়েছে।

ড. পিটলে ক্যাথরিনা ট্রাম্পের পূর্ব পুরুষদের রেকর্ড ঘেঁটে জানতে পারেন পিটার স্টাম্প ও ক্যাথরিনা ট্রাম্প দুজনই জার্মানির ক্যালস্টাডটের বাসিন্দা ছিলেন। যে সময়ে ওয়ারউলফ    অর্থাৎ নেকড়ে মানুষের খুনোখুনির ঘটনা, তখন তারা ক্যালস্টাডটেতে ছিলেন। কিন্তু তাদের মৃত্যুর আগে কোনো সন্তান ছিল কিনা সেটা জানা যাচ্ছে না। আর এখানেই গবেষণা থেমে গেছে। সূত্র মেলানো যাচ্ছে না।  

আর এই গ্রামকে কেন্দ্র করেই জার্মানিতে মানুষের নেকড়ে হবার কাহিনী। এখনো সেখানকার লোকেরা ওয়ারউলফের কাহিনী বিশ্বাস করে।

ভাষান্তর: সুমন দত্ত