একাদশ সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক নতুন দলের সুযোগ আসছে

নিউজ ডেস্ক : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক দল ও জোটের সমীকরণ যখন চলছে, তখন নিবন্ধনের জন্য আগ্রহী দলগুলোর আবেদন আহ্বান করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

ডিসেম্বরের মধ্যে দলগুলোকে শর্ত মেনে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ হেলালুদ্দীন আহমদ। সোম অথবা মঙ্গলবার এই বিজ্ঞপ্তি আসবে।

২০০৮ সালে নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হওয়ার পর বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪০। তবে দশম সংসদ নির্বাচনে এর অধিকাংশগুলোই অংশ নেয়নি।

২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে এ পর্যন্ত এক ডজন দল ও জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। সক্রিয়তা থাকলেও নির্বাচনে অংশ নিতে হলে এই দলগুলোকে ইসিতে নিবন্ধিত হতে হবে।

ভোট এলেই নতুন দলের তৎপরতা বেশি দেখা যায়। ২০১৮ সালের শেষার্ধ্বের ভোটের বেশ আগেই নতুন কয়েকটি দলের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

সাবেক বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা যেমন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট অ্যালায়েন্স (বিএনএ) নামে নতুন দল নিয়ে আসেন ২০১৪ সালের মে মাসেই।২০১৮-১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।

গত জুনে মাহমুদুর রহমান মান্না নিয়ে আসেন নাগরিক ঐক্য নামে নতুন দল।

সর্বশেষ গত মাসে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার আশা নিয়ে নতুন জোট আসে বাংলাদেশ জনতা পার্টি-বিজেপি’ নামে। চার বছর আগে আত্মপ্রকাশ করা ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আদিবাসী পার্টি’র নেতৃত্বে কয়েকটি সংগঠন নিয়ে এর যাত্রা শুরু।

বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশও ঘটে ওই মাসে।

নতুন দলের আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি চলতি বছরজুড়ে জোটের তৎপরতাও চলছে জোরেশোরে।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোটের বাইরে তৃতীয় জোট গড়ার কথা বলে আসা বিকল্পধারা, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও গণফোরামসহ কয়েকটি দলের রাজনীতিকরা গত অগাস্টে বৈঠক করে। তাদের কথা, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তৃতীয় রাজনৈতিক জোট করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা করছেন তারা।

হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘সখিতায়’ ইসলামী দলগুলোর নির্বাচনী ভাবনায়ও নতুন ছক হচ্ছে। এতদিন এই দলগুলোর বেশিরভাগ বিএনপির সঙ্গে থাকলেও সেই বলয় থেকে বেরিয়ে একটি অংশ আলাদাভাবে ভোট করার পরিকল্পনা ধরে এগোচ্ছে।

বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টিও কিছু ইসলামী দলকে জড়ো করে নতুন আরেকটি জোটের পরিকল্পনায় ব্যস্ত।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বে ‘ইসলামী মূল্যবোধের’ নতুন এক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে গত ৭ মে, যার নাম দেওয়া হয় ‘সম্মিলিত জাতীয় জোট’, সংক্ষেপে ইউএনএ।

পরদিনই দুটি ছাড়া বাকি দলগুলো এরশাদের ‘তৈরি’ বলে দাবি করেছে বিএনপি।

বিভিন্ন ইসলামী দলের নেতারা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে মিলে নতুন একটি জোট হচ্ছে ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স অথবা বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক এলায়েন্স’ নামে। সমঝোতা করে ক্ষমতাসীন দলের ‘নৌকা’ প্রতীকেই ভোট করার অভিপ্রায় জুলাইয়ে শুরু করা এই জোটের উদ্যোক্তাদের।

দল, জোট আর ভোট নিয়ে যখন তৎপরতা তখন আলোচিত হেফাজতে ইসলাম বলছে, তারা রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে কখনোই ভোটে নামবে না। এটা অরাজনৈতিক সংগঠন। তাই নিবন্ধনের আবেদনও করবে না সংগঠনটি।

হেফজাতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী সময়প্রতিদিনকে বলেন, “আমরা যেহেতু রাজনৈতিক সংগঠন নই, সেহেতু নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের প্রশ্নই উঠে না। আমাদের ব্যনারে কেউ নির্বাচনে বা প্রার্থী হিসাবে অংশ নেবে না। রাজনৈতিক সংগঠন হিসাবে আমাদের কাজ নেই, এ নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ নেই।”

ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে অনেক দল বলছে, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল (আদালতে অবৈধ) হওয়ায় দলটির কেউ যেন কোনোভাবে ভোটে অংশ নিতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের  কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন দল হিসাবে আগ্রহী যে কেউ জোট বা যে কোনো নামেই আবেদন করতে পারে। ইসি যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেবে।

তবে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দলের জোটগতভাবে ভোট করার বিষয়টি ইসির এখতিয়ারের মধ্যে নেই। ইসি শুধু নিবন্ধিত দলগুলোকে নিয়েই কাজ করে। সেক্ষেত্রে অনিবন্ধিত জামায়াতের বিষয়ে কমিশনও কিছু করবে না।

নিবন্ধিত দলের প্রার্থীরাই দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে এবং নিবন্ধিত দলের জোটের প্রার্থী হলে দুই পক্ষের সম্মতিতে প্রতীক ব্যবহারের বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসিকে জানানোর বিধান রয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, কমিশনের তিনটি শর্তের মধ্যে একটি পূরণ হলে একটি দল নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হয়।

শর্তগুলো হলো– ১. দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কোনো জাতীয় নির্বাচনের আগ্রহী দলটি যদি অন্তত একজন সংসদ সদস্য থাকেন; ২. যে কোনো একটি নির্বাচনে দলের প্রার্থী  অংশ নেওয়া আসনগুলোয় মোট প্রদত্ত ভোটের ৫ শতাংশ পায়। ৩. দলটির যদি একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়, দেশের কমপক্ষে এক তৃতীয়াংশ [২১টি] প্রশাসনিক জেলায় কার্যকর কমিটি এবং অন্তত ১০০টি উপজেলা/মেট্রোপলিটন থানায় কমপক্ষে ২০০ ভোটারের সমর্থন সম্বলিত দলিল থাকে।

নতুন কোনো দলকে নিবন্ধন পেতে হলে শেষ শর্তটিই পূরণ করতে হয়।

নির্বাচন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন বলেন, “নতুন দলের আগ্রহীদের আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে দিতে কমিশন সম্মতি দিয়েছে। সোম-মঙ্গলবারের মধ্যে আবেদন আহ্বান করব।”

৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আবেদন যাচাই-বাছাই, দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে মার্চের মধ্যে নতুনদের নিবন্ধন চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। আগামী বছরের শেষ দিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে যাতে তারাও অংশ নিতে পারে।