‘ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশ ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক : এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বাণিজ্য বিষয়ক নীতিমালা সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর রেডিসন হোটেলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং ইউএনডিপি-বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইমপ্যাক্ট বাংলাদেশ ফোরাম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

বিআইডিএস’র মহাপরিচালক ড. খান আহমেদ সৈয়দ মুরশিদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি এবং এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই’র সভাপতি আবুল কাসেম খান।

বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) ও সিপিডি’র সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্রাচার্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, বাংলাদেশ ফ্রাইট ফরওয়ার্ডস এসোসিয়েশন-এর সভাপতি মাহবুবুল আনাম, কে-লাইন, জাপান’র ম্যানেজার সাতুষি কানামোরি নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

আয়োজিত এ ফোরামে ‘প্রবৃদ্ধি ও এসডিজি’র জন্য অবকাঠামো নির্মাণ’, ‘কনভেনিং ফর ইমপ্যাক্ট : ব্যবসায়িক নেতৃত্ব এবং এসডিজি পার্টনারশীপ’, ‘ক্যাটালাইজিং ইমপ্যাক্ট ঃ তথ্য ও নীতিমালা’ এবং ‘এসডিজিতে পরিবেশবান্ধব জুট পাল্প পেপারের প্রভাব’ বিষয়ক ৪টি প্যারালাল সেশন অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, অর্থনীতির সঠিক বিকাশের জন্য সব শিল্পখাতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়টিতে সরকারের যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিসংখ্যানে বেশ উন্নতি করেছে এবং এদেশের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ইউএনডিপি’র প্রতি আহবান জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারীখাত সকল প্রতিবন্ধকার মধ্যেও নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ হতে এ ধারাবাহিকতা রক্ষায় সকল ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে নানাবিধ আইন প্রণয়ন কিংবা বাণিজ্যিক সুবিধা প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রায়ই বঞ্চনার শিকার হচ্ছে, তাই এ বিষয়ে ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরোও সচেতন হতে হবে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় দেশগুলো আরো অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে পারবে।

তিনি বলেন, দেশের বাণিজ্য নীতিমালাসমূহে কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় আমাদের বেসরকারী খাত কাঙ্খিতমাত্রায় উন্নতি লাভ করতে পারিনি এবং এ সমস্য সমাধানে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালা সংষ্কারে সরকারের পক্ষ হতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে ইউএনডিপি-বাংলাদেশ’র ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর কাওকো ইউকোসোকা বলেন, বাংলাদেশ সরকার গৃহীত সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রার সাথে খুবই সঙ্গতিপূর্ণ সেখানে জিডিপিতে বেসরকারী খাতে অবদান হবে ৭৭ শতাংশ এবং ১৩ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

তিনি বলেন, বেসরকারীখাতে জিডিপি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিনিয়োগ বিষয়ক তথ্য প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিনিয়োগ বিষয়ক তথ্য প্রাপ্তির নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিসিসিআই এবং ইউএনডিপি একযোগে কাজ করবে।

তিনি জানান, এসডিজিতে ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রায় সারা পৃথিবীতে ১২ ট্রিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হয়েছে, যেখানে এশিয়াতে ৫ ট্রিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে।

এফবিসিসিআই’র সভাপতি বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমান ছিল ৩৪ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপি’র প্রবদ্ধি ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছে।