আ’লীগই খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করেছে : রিজভী

নিউজ ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ফেনী শহরে ঢোকার সময় আকস্মিকভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বহরের ওপর হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও দলের নেতাকর্মীদের আহত করেছে। তারা বহরে থাকা গণমাধ্যমের গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুর্দশাগ্রস্ত ও অসহায় রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেয়ার জন্য শনিবার সকালে নিজ বাসভবন থেকে বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃবৃন্দসহ কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। তার এই সফরের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণরূপে মানবিক সহায়তার জন্য। রোহিঙ্গাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও জীবনধারণের জন্য যতটুকু সম্ভব প্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ দলের পক্ষ থেকে তিনি ত্রাণ বিতরণ করবেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মানবতা ও মানুষের দুঃখ-বেদনাকে পরোয়া করে না। তারা প্রতিহিংসার গজকাঠি দিয়ে সবকিছু পরিমাপ করে। বাংলাদেশে আশ্রিত নিঃস্ব ও অবলম্বনহীন রোহিঙ্গাদের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার ত্রাণ তৎপরতাকে তারা সহ্য করতে পারছে না। গতকাল সন্ধ্যায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। এ সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

রিজভী বলেন, বেগম জিয়ার বিপুল জনপ্রিয়তায় কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে এখন ভোটারবিহীন সরকার জনগণের ওপর প্রতিশোধ নিতেই বরাবরের মতো সন্ত্রাসকে অবলম্বন করে দেশনেত্রীর গাড়িবহরে বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের কৃতিত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রকে বধ করে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে নিষ্ঠুর-নির্দয় নির্যাতন করা। এই হামলায় শুধু ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুরই হয়নি, গণমাধ্যমের অনেক সাংবাদিক সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন। বিএনপির অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী ক্যাডারদের বর্বরোচিত আক্রমণে আহত হয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহর এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের গাড়িসহ গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর এই আক্রমণ বর্তমানে গণতন্ত্রের সঙ্কটকে আরো ঘনীভূত করল।

তিনি বলেন, সরকার তাদের দানবীয় শক্তির জোরে বিরোধী দলশূন্য যে সমাজ-রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তা আবারো আজকের ঘটনার মধ্য দিয়ে সুস্পষ্ট হলো। সরকার স্বচ্ছ নির্বাচন, নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ ও বাকস্বাধীনতাকে চিরতরে বন্দী করে রাখার জন্যই সন্ত্রাসকে বেছে নিয়েছে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করার এবং গণমাধ্যমের গাড়িতে ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যেসব গুণ্ডা সাংবাদিক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। আহত সাংবাদিক বন্ধুরাসহ বিএনপি নেতাকর্মীরা যারা সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছেন তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং আশু সুস্থতা কামনা করছি। যেসব স্থানে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। 

রিজভী বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার কাঁচপুর ব্রিজে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গাড়িবহরে বাধা দিয়েছে। কুমিল্লায় শুক্রবার রাতে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি, ইলিয়টগঞ্জে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করেছে। চান্দিনার কুটুম্বপুর থেকে শারপাজ, বরকা, নূরীতলা, মানিকচর, বাগৈ এলাকায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ও লাঠি নিয়ে বাধা দিয়েছে। ফেনীর বেকেরবাজার, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রাস্তায় গাছ কেটে ফেলে রেখে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাধার সৃষ্টি করেছে। ফেনীর পাঁচগাছিয়ায় বাসস্ট্যান্ডের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মিরসরাই থানা বিএনপির আলমগীর হোসেন, যুবদলের মো: মামুন ও ছাত্রনেতা মো: রানাকে আওয়ামী ক্যাডাররা মারাত্মকভাবে আহত করেছে। তারা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধানমন্ডি থানা বিএনপি নেতা এমদাদুল হক রিপন, রুহুল বেপারী, মো: সবুজ, নাছির, মো: মামুন, মো: হাসান ও ইমামউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মামুনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম সিটি গেটে বিএনপির সব ব্যানার, ফেস্টুন পুড়িয়ে দিয়েছে এবং হামলায় বায়েজিদ বোস্তামি টি-বোর্ডের সামনে সৈয়দ মঞ্জুরসহ ১২-১৪ জন আহত হন। ফেনীর মহিপাল ব্রিজের কাছে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়িবহরে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা করে নবী উল্লাহ নবীর গাড়িসহ দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করে। 

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা চ্যানেল আই, বৈশাখী এবং ৭১ টেলিভিশনের গাড়ি ভাঙচুর করেছে আওয়ামী ক্যাডাররা। যায়যায়দিন পত্রিকার সাংবাদিক হাসান মোল্লা, নয়া দিগন্তের মঈন উদ্দিন খান, প্রথম আলোর সেলিম জাহিদ, ফটোসাংবাদিক আশরাফুল আলম, ডেইলি স্টারের মাসুম, যুগান্তরের হাবিবুর রহমান হাবিব, বিডি নিউজের সুমন মাহমুদ, কালের কণ্ঠের শফিক শাফি, ৭১ টিভির শফিক আহমেদ, বৈশাখী টিভির মোর্শেদ, আমাদের সময়ের হাসান শিপলুসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের গাড়িতে আওয়ামী ক্যাডাররা ব্যাপক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে, ৭১ টিভির ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ভাঙচুর এবং সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করে। ঢাকা মহানগর দেিণর কয়েকটি গাড়ি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ভাঙচুর করে। ড্যাবের দু’টি গাড়িতে হামলা চালিয়ে ডা: ফরহাদ হালিম ডোনার, তৌহিদ, আখতারুজ্জামান, শরিফ হোসেন, আবদুল কাদের সজীব, জাভেদ, ডা: সোহান, আরিফ, ফারুক, মারুফ, ড্রাইভার ঝন্টু মিয়া ও রিপনকে মারাত্মকভাবে আহত করে।

এর আগে বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, আমাদের ধারণা ছিল এ ধরনের ত্রাণের কাজে সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হয়ে সহযোগিতা করবে। যেসব এলাকা দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যাবেন সেসব জেলার স্থানীয় প্রশাসনকেও আমরা যথারীতি অবহিত করেছিলাম। প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

রিজভী দাবি করেন, বিএনপির জনপ্রিয়তায় শঙ্কিত হয়ে সরকার ও মতাসীন দল এই হামলা করেছে। বিএনপি নেত্রীকে দেখতে পথে মানুষের যে ঢল নামে, সেই ঢল থামাতে সরকার-সমর্থকেরা নি¤œ রুচির পরিচয় দিয়েছে। সকালে খালেদা জিয়া যখন তার বাসভবন থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন কয়েকটি টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করছিল। এই সম্প্রচার সরকারের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সরকারের নির্দেশেই টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃপ লাইভ দেখানো বন্ধ করেছে। 

সংবাদ সম্মেলনে দলের সহদফতর সম্পাদক মো: মুনির হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, কেন্দ্রীয় নেতা জেড মোর্তুজা চৌধুরী তুলা, আব্দুল খালেক, জাসাস নেতা সিরাজুল ইসলাম খান, যুবদল দল নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

স্বেচ্ছাসেবক দলের নিন্দা : এ দিকে স্বেচ্ছাসেবক দল কুমিল্লা উত্তর জেলার উদ্যোগে চান্দিনা থানার কুটুম্বপুরে ফেস্টুন ও ব্যানার লাগানোর সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুইয়া জুয়েল।