পাকিস্তানের সন্ত্রাস দমন করবে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাস দমনে পাকিস্তানকে চরম সতর্কবার্তা দিয়ে গেলেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা ঘোষণাপত্রে বলা হয়, পাকিস্তানকে তার মাটি থেকে সন্ত্রাস উৎখাত করতে হবে। এতে যদি ইসলামাবাদ কাজ না করার নীতি নেয় তবে ওয়াশিংটন তার লক্ষ্য পূরণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

ভারত সফরে আসার আগে টিলারসন চার ঘণ্টার জন্য ইসলামাবাদে যাত্রা বিরতি দিয়েছিলেন। টিলারসনের সঙ্গে ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের কাছ থেকে জানা যায় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের জন্য কি ম্যাসেজ নিয়ে এসেছে। তাদের মতে আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনতে ওয়াশিংটন পাকিস্তানের সব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে দমনের নীতি নিয়েছে। পাকিস্তান যদি তাদের সন্ত্রাস পালনের নীতি থেকে সরে না আসে তবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই এ দায়িত্ব পালন করবে। পাকিস্তানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে হলে অবশ্যই নিজের মাটিতে সন্ত্রাস দমন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালিস ওয়েলস সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এদিকে পাকিস্তান নিজের দেশের লোকদের বোঝানো শুরু করেছে তার দেশে চালানো সন্ত্রাসীদের পিছন থেকে মদদ দিচ্ছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র।তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব গল্প খারিজ করে দিয়েছে। তাদের মতে পাকিস্তানের এসব তথ্য বানোয়াট। সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে। তাদের মাটি থেকে ভারত ও আফগানিস্তানে সন্ত্রাস চালানো যাবে না। পাকিস্তানকে নিজের মাটিতে সন্ত্রাস দমন করতে হবে।

পাকিস্তান এখন বলছে, দেশটির দুর্ধর্ষ তেহেরিক-ই- তালেবান গোষ্ঠীকে মদদ দিচ্ছে ভারত। পাকিস্তানে রাষ্ট্র বিরোধী কাজে মদদ দিচ্ছে ভারত। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ পেশ করতে পারেনি পাকিস্তান। সম্প্রতি তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় চীন, রাশিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্কের সাহায্য আহবান করছে।

পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আছে এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকায় আছে। এমন দাবি করা হলেও ভারত ও জাতিসংঘ ঘোষিত শীর্ষ সন্ত্রাসী হাফিজ সাইদ, দাউদ ইব্রাহীম, মৌলানা মাসুদ আজহারদের লালন পালন করার নীতি নিয়েছে। যা বিশ্বের কাছে পাকিস্তানের আসল রূপ প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পাকিস্তানের সীমানার ভেতরই কেন খুঁজে পাওয়া যায়। এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাকিস্তান আজও দিতে পারেনি।

ভাষান্তর: সুমন দত্ত