বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিং ও অজানা কিছু তথ্য

গত ২৩ অক্টোবর ২০১৭ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে “সাইবার হ্যাকিং এর মাধ্যমে চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং এ সম্পর্কিত বিভিন্ন পক্ষের কার্যক্রমের অগ্রগতি” শিরোনামে দেশের শীর্ষস্হানীয় খবরের কাগজগুলোতে এ সংক্রান্ত খবর ছাপা হয়েছে। খবরটির সার সংক্ষেপ এরকম- হারানো ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা গেছে, বাকিটুকুও ফেরত আনা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের অনেকে শনাক্ত হয়েছে, শাস্তিও পাচ্ছে

তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো আসলে কি ঘটেছিল তা জানা গেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা এই অর্থ সরিয়ে ফেলতে পেরেছিলো, আর তাদের সহায়তা করেছে ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক। ফিলিপাইনের কর্তৃপক্ষ এই দায় স্বীকারও করেছে এবং অর্থ ফেরত দিতে সর্বাত্মক সহায়তা করে যাচ্ছে।

কিন্তু এর কোনটিই নতুন খবর নয়। এসব আমরা আগেই জেনেছি আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রতিবেদন আর দেশি-বিদেশি সংবাদ মাধ্যম থেকে। তবুও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি প্রয়োজন ছিলো । কারণ, দেশের বেশ কিছু সংবাদপত্র আর তথাকথিত বিশেষজ্ঞ শুরু থেকেই এ নিয়ে অপপ্রচার করে আসছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রেক্ষিতে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে । যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিলেন তারা শুরু থেকেই পুরো দোষ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর চাপানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, সুইফট, এমন কি এফবিআই-এর পক্ষ থেকে আসা বক্তব্য, কিংবা গণমাধ্যমে আসা আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের তোয়াক্কা না করো তারা নিজেরা গল্প বানাচ্ছিলেন, ঘরের মধ্যে চোর খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। অথচ এই সাইবার আক্রমণ যে বিদেশি হ্যাকারদের কাজ তারা সেটা জানতেন। জেনেও এই আত্মবিধ্বংসী অপপ্রচার করা থামাননি। কাজেই তাদের এই অপপ্রচার কতোটা অজ্ঞতার কারণে আর কতোটা বিশেষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত সেটা ভেবে দেখার বিষয়। এমন ভাবনার কারণ এই অপপ্রচারের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর অনেকেই মনে করেন এতে দেশের ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু অসাধু গোষ্ঠি (খবরের কাগজ ঘাটলে এরকম ঘটনার বেশ কিছু উদাহরণ পাওয়া যাবে)।

দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য জানা গেছে, আর এতে করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ আর থাকছে না। এখন প্রধান কাজ হবে ফিলিপাইনে আটকে থাকা টাকা উদ্ধার করা। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর কথা শোনা গেছে সরকারের পক্ষ থেকে। তবে কূটনৈতিক তৎপরতায় কাজ না হলে প্রয়োজনবোধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার পথও খোলা রয়েছে। সে পথে হাটার জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে।