কুলাউড়ায় মনু নদী ভাঙন, অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত

 

এম শাহবান রশীদ চৌধুরী মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : কুলাউড়া উপজেলায় গত ৩ দিনের অবিরাম বর্ষনে রোববার ভোররাতে সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলা ব্রীজ সংলগ্ন স্থানে ও টিলাগাও ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রামসহ দু’স্থানে মনু নদীর তীরের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে শরীফপুর,হাজিপুর ও টিলাগাওসহ ৩ ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

জানা যায় অতি বৃষ্টিতে ভারত সীমান্তের উজানের পাহাড় থেকে নেমে আসা মনু নদীর পানি বৃদ্ধির কারনে রোববার ভোররাতে মনুনদীর দু’স্থানের বাধ ভেঙ্গে ৩ ইউনিয়নের অর্ধশত গ্রামে পানি প্রবেশ করে জমির ফসল ও বাড়ীঘরসহ রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়ে পড়ে। বন্যা কবলিতরা স্ব-স্ব উদ্দোগে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহন করে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সৃষ্ট ভাঙনের ফলে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করায় কাচা ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়ে শত শত মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় মনু নদীর তীরের মানুষ আতংকের মধ্যে কালাতিপাত করছেন। মনু নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আরো অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খবর পেয়ে কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, ইউএনও চৌঃ মোঃ গোলাম রাব্বী ও পিআইও শিমুল আলী রোববার সকালে ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে সান্তনা প্রদান করেছেন।

ইউএনও জানান ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে তাৎক্ষনিকভাবে উপজেলা প্রশাসন থেকে শরীফপুর ইউনিয়নে ৩’শত প্যাকেট ও টিলাগাও ইউনিয়নে ১’শত প্যাকেট খাদ্য সামগ্রী বিতরন করা হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম জানান সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলা ব্রীজ সংলগ্ন স্থান মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন থেকে বালু উত্তোলনের জন্য ইজারা দেয়ায় ও ইজারাদার বালু উত্তোলন করায় একদিকে উক্ত স্থানের বাধ ভেঙ্গে পানি প্রবেশ করেছে। অপরদিকে ৩০/৪০ কোটি টাকার চাতলা ব্রীজ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। তিনি জনস্বার্থে ব্রীজ সংলগ্ন স্থানের বালু উত্তোলনের ইজারা অবিলম্বে বাতিলের দাবী জানান।