দেশে ফিরছেন খালেদা

নিউজ ডেস্ক: দেশের উদ্দেশে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া লন্ডন হি‌থ্রো বিমানবন্দর থে‌কে রওয়ানা হয়েছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিট) খালেদা জিয়াকে বহনকারী অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানটি (ইকে-৫৮৬) হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে দুবাইয়ের উদ্দেশে ছেড়েছে।

বুধবার সোয়া ৫টায় তার ঢাকা হযরত (রহ.) শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে।

লন্ডন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মাইনুল ইসলামের বরাত দিয়ে দলের চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দীন দিদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

বিএনপি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে ব্যাপক অভ্যর্থনা জানানোর প্রস্তুতি নিয়েছে।

দেশে ফিরেই তিনি বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানাবেন।

এদিকে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ঢাকায় দুটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও এখনই তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না বলে পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেছেন, খালেদা জিয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তারা আশা করছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। তা ছাড়া মঙ্গলবার পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা থানায় পৌঁছেনি। তাকে গ্রেফতারে ওপর মহলেরও কোনো নির্দেশনা নেই।

মঙ্গলবার বিকেলে মিরপুরে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এক অনুষ্ঠানে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনও থানায় পৌঁছায়নি।

বিমানবন্দরে খালেদা জিয়াকে সংবর্ধনার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করবে না। তবে রাস্তায় যান চলাচল বিঘ্ন হয়, মানুষের ভোগান্তি হয়- এমন কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হবে না। কাউকে সড়ক দখল করতে দেওয়া হবে না।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে জানান, বিমানবন্দরে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানানো হবে। দলের পক্ষ থেকে সেই প্রস্তুতিই নেওয়া হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিমানবন্দরে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। তবে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটালে তাদেরই সব দায়দায়িত্ব নিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তিন মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি ও জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে মানহানির দুটি মামলা। এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দুই বছর আগে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে আটজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় খালেদা জিয়াসহ ‘পলাতক’ আসামিদের বিরুদ্ধে গত ৯ অক্টোবর আরেকটি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজির না হওয়ায় ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন আদালত। ঢাকার পঞ্চম বিশেষ আদালতে এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর আদালত বৃহস্পতিবার এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অবশিষ্ট সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলার কাগজ ও ফাইলপত্র সবই ঠিক করে রাখা আছে। আবেদন করলে আশা করি আদালত জামিন দেবেন।

গত ১৫ জুলাই লন্ডনের উদ্দেশে খালেদা জিয়া ঢাকা ত্যাগ করেন। সেখানে ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় থেকে তিনি পা, হাঁটু ও চোখের চিকিৎসা করান।