ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ৫ পরিবহনশ্রমিক

নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রুপা খাতুনকে গণধর্ষণের পর হত্যার মামলায় পাঁচ পরিবহনশ্রমিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুপুরের অরনখোলা ফাঁড়ির পরিদর্শক কাইয়ুম খান সিদ্দিকী টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র জমা দেন।

সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে গ্রেফতার হওয়া ছোঁয়া পরিবহনের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, হত্যা, লাশ গুমের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম জানান, অভিযোগপত্রে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশ, চিকিৎসকসহ পাঁচ-ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন।

বিষয়টি টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম (পিপিএম) রোববার দুপুরে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন।

রুপার ভাই হাফিজুর রহমান প্রামানিক বলেন, অভিযোগ জমা দেয়ায় আশা করছি ন্যায় বিচার পাব। এর সঙ্গে দাবি জানাচ্ছি এদের যেন দ্রুত বিচার আইনে ফাঁসি দেয়া হয়।

রুপার মা হাসনা হেনা বলেন, আমার জীবদ্দশায় আমি যেন অভিযুক্ত ওই ধর্ষণকারীদের ফাঁসি দেখে মরতে পারি।

বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে গত ২৫ আগস্ট রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহনশ্রমিকেরা। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায় তারা।

পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রুপাকে শনাক্ত করেন।