বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বলের সাতান্ন বছর

নিউজ ডেস্ক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি বলেছেন, কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

শিক্ষা-গবেষণায় দেশের সেরা, খাদ্য-পুষ্টি নিরাপত্তা দেবো মোরা- স্লোগানকে সামনে রেখে শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিংয়ে দেশে শীর্ষস্থান অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ বছর, গৌরবোজ্জ্বলের সাতান্ন বছর। বিশ্ববিদ্যালয়টি যে উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা সফল হয়েছে, সমগ্র জাতি কৃতজ্ঞ।

তিনি বলেন, কৃষিতে এগিয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করেছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা, যার অন্যতম বাকৃবি। আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণদের গড়ে তুলতে হবে। দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে, জ্ঞান প্রযুক্তি রফতানিকারক হতে হবে। দক্ষ জনশক্তি না থাকায় আমাদের দেশে বিদেশিরা চাকরি করে বেশিরভাগ অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ আমাদের অনেক শিক্ষিত বেকার রয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে হবে। আজ আমরা আপনাদের অবদানে শাকসবজি ও মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ হতে পেরেছি।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে যুগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

বাকসু নির্বাচন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এ দায়িত্ব সিন্ডিকেট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের। সিদ্ধান্ত ও নীতিমালা করে আমাদের জানান, এক্ষেত্রে আপনাদের (বিশ্ববিদ্যালয়ের) যে সহযোগিতা প্রয়োজন সরকার তা করবে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের হাওর ও চর এলাকার উন্নয়নে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অচিরেই হাওর ও চর উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউট পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আলী আকবর, সিন্ডিকেট সদস্য কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান এমপি, বাউরেস এর পরিচালক প্রফেসর ড. মঞ্জুরুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সভাপতি কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান, নির্বাহী সম্পাদক কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন ও সম্মুখ ভাবনা শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. এম এ সাত্তার মণ্ডল।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. একেএম জাকির হোসেন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ছাইফুল ইসলাম।

ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আলী আকবর বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু কৃষিতেই নয় আরও অনেক কিছু আছে যাতে আমরা দেশের অনন্য। তার মধ্যে গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম ও জার্মপ্লাজম সেন্টার অন্যতম।

এ সময় জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, অনুষদীয় ডিনরা, শিক্ষকমণ্ডলী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যালিপ্যাডে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ৫৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বর্ণিল-বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে শেষ হয়।

দিবসটি উপলক্ষে কৃষক সমাবেশ ও শস্য বীজ বিতরণ কর্মসূচি এবং বাকৃবিতে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রাতে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।