৩১ বছর পর ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

নিউজ ডেস্ক; ১৯৮৬ সালের ঘটনা। অভিযোগ, এক রাতে গৃহপরিচারিকাকে ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন দামুড়হুদার গোবিন্দহুদা গ্রামের আজিজুর রহমান ওরফে পচা হুজুর। এতে জন্ম হয় এক কন্যাসন্তানের। সামাজিক চাপে বিয়ে নিবন্ধন হলেও স্ত্রীর মর্যাদা পাননি ওই গৃহপরিচারিকা। তাঁর মেয়েও পায়নি পিতৃপরিচয়।

দীর্ঘ ৩১ বছর পর আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ওই গৃহপরিচারিকা। ধর্ষণের অভিযোগ, স্ত্রীর মর্যাদা এবং ঔরসজাত সন্তানের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য মামলা করেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ আদালতে মামলাটি করা হয়।

মামলায় দামুড়হুদা উপজেলার সদর ইউনিয়নের চিৎলা গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত সামছুদ্দীন বিশ্বাসের ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে পচা হুজুরকে আসামি করা হয়েছে। আদালতের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ রবিউল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল হাসানকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গার মানবাধিকার সংগঠন ‘মানবতা’র আইনি সহায়তায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি করা হয়। মামলার আসামি আজিজুর রহমান দাবি করেন, ১৯৮৬ সালের ঘটনা, সে সময় সামাজিকভাবে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পর আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। এত দিন পর কেন মামলা হচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। বাদী তাঁর স্ত্রী কি না এবং বাদীর মেয়ে তাঁর ঔরসজাত সন্তান কি না, জানতে চাইলে আজিজুর কৌশলে এড়িয়ে যান।

মামলার বাদী চিৎলা গোবিন্দহুদা গ্রামের মৃত কালাচাঁদের মেয়ে সিপারা খাতুন আরজিতে উল্লেখ করেছেন, ১৯৮৬ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে তিনি প্রতিবেশী সামছুদ্দিন বিশ্বাসের বাড়িতে ঝিয়ের (গৃহপরিচারিকা) কাজ করতেন। ওই বাড়িতে কাজ করার সময় গৃহকর্তার ছেলে আজিজুর রহমান (সে সময় ২০-২১ বছর বয়স) তাঁকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালের ১১ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে তাঁর (গৃহপরিচারিকার) ঘরে ঢুকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিকভাবে মেলামেশার চেষ্টা করেন। এতে তিনি রাজি না হলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। লোকলজ্জার ভয়ে তিনি ঘটনাটি তখন কাউকে বলেননি।

ধর্ষণের কারণে ওই গৃহপরিচারিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত আজিজুর রহমান গর্ভপাত ঘটানোর জন্য তাঁকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু ওই নারী তা করেননি। অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় এলকাবাসীর চাপে আজিজুর কাজী ডেকে বিয়ে করলেও স্ত্রীর মর্যাদা দেননি।
ধর্ষণের শিকার গৃহপরিচারিকা ১৯৮৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সামাজিক চাপে কিছু জমি লিখে দেন। সেই মেয়ের বয়স ১৮ বছর হলে ওই জমি বিক্রি করে তাঁকে বিয়ে দেওয়া হয়। গত বছর ‘জন্মের ঠিক নাই’ উল্লেখ করে তাঁকে তালাক দিয়ে দুই সন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন স্বামী।

চলতি বছরে বাদী ও তাঁর মেয়ে চুয়াডাঙ্গার মানবাধিকার সংগঠন মানবতার কাছে আইনি সহায়তা চান। সংগঠনটির কাছে আজিজুর রহমান বাদীকে স্ত্রীর মর্যাদা এবং তাঁর কন্যাকে সন্তানের স্বীকৃতি দেবেন বলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন। ১ অক্টোবর দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।