সাগর হত্যাকান্ডের মূলহোতা আক্কাসের দায় স্বিকার, কাইয়ুমের রিমান্ডে

ময়মনসিংহ ব্যুরো : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চুরির অভিযোগে খঁটির সাথে বেধে পিটিয়ে সাগর হত্যাকান্ডের মূলহোতা চরশ্রীরামপুর গ্রামে গাউছিয়া মৎস্য খামারের মালিক আক্কাস আলী ঘটনা দায় স্বিকার করে আদালতে স্বিকারোক্তি প্রদান করেছে।

র‌্যাবের হাতে ভৈরব থেকে আটককৃত চরশ্রীরামপুর গ্রামে গাউছিয়া মৎস্য খামারের মালিক আক্কাস আলীকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে তাকে পাচ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। দীর্ঘ পাচ দিন জেলা পুলিশের নেতৃত্বে জেলা ও ডিবি পুলিশ টানা পাচ দিন জিজ্ঞাসাবাদশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এ সময় আক্কাস আলী ১৬৪ ধারার বিধানমতে সাগর হত্যাকান্ডের সাথে তার জড়িত থাকাসহ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের জড়িয়ে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আদালতে স্বিকারোক্তি প্রদান করে।

এদিকে এ হত্যাকান্ডের অন্যতম হোতা গাউছিয়া মৎস্য খামারের সহকারী ম্যানেজার আঃ কাইয়ুমকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত শুনানীশেষে তাকে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। বুধবার রাতে জেলা সদরের দুর্গম এলাকা চরঈশ্বরদিয়া থেকে পুলিশ কাইয়ুমকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে সাগর হত্যাকান্ডে চারজন গ্রেফতার করা হয়েছে।

মামলার মতে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর গৌরীপুরের চরশ্রীরামপুর গ্রামে গাউছিয়া মৎস্য খামারের মালিক আক্কাস আলীর নেতৃত্বে তার খামারের বৈদ্যুতিক মটর চুরির অভিযোগে সাগর নামের এক টুকাইকে আটক করে খুঁটির সাথে বেধে নির্মম ও অমানসকিভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। সাগরের লাশ গুম করতে পার্শ্ববর্তী কাশবনে ফেলে রাখে। লোমহর্ষক ও হৃদয় বিদারক সাগর হত্যাকান্ড ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, ফেইসবুকে ভাইরাল হয়ে সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়। এ হৃদবিদারক হত্যাকান্ডে পুলিশ হেডকোয়ার্টার গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং শুরু করে।

আলোচিত এ ঘটনায় পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে ডিবি ও গৌরীপুর পুলিশ পরদিন সাগরের লাশ কাশবন থেকে উদ্ধার করে। লোমহর্ষক, মর্মস্পর্শী বর্বোরোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা নং ২৯ তাং ২৬/০৯/১৭ দায়ের করে। এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রিয়াজ উদ্দিন খাকে গ্রেফতার করে।

রিয়াজ উদ্দিন হত্যাকান্ডের দায় স্বিকার ও ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে স্বিাকরোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। রিয়াজের স্বিকারোক্তি মোতাবেক ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামী ফজলুর রহমান ফজলুকে গ্রেফতার করে। ফজলু আদালতে স্বিকারোক্তি প্রদান করে জবানবন্দি দেয়।

এদিকে গাউছিয়া মৎস্য খামারের মালিক ও পরিকল্পনাকারী আক্কাসকে র‌্যাব ময়মনসিংহ ভৈরব থেকে আটক করে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ডিবি পুলিশ আক্কাসকে ৫দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং গতকাল বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে প্রেল করে। এ সময় আক্কাস আলী ঘটনার বিশদ বর্ণনা দিয়ে এবং নিজেকে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িয়ে স্বিকারোক্তি প্রদান করে।

অপরদিকে পুলিশ হেড কোয়ার্টারের সহায়তায় ডিবি পুলিশের এলআইসি বিভাগের সহায়তা ওসি মোঃ আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে জেলা সদরের দুর্গম এলাকা চর ঈশ্বরিদয়া থেকে ঘটনার মূলহোতা নির্মম ও অমানসিকভাবে নির্যাতনকারী গাউছিয়া মৎস্য খামারের সহকারী ম্যানেজার আঃ কাইয়ুমকে গ্রেফতার করে। ১০ দিনের ম্মান্ড চেয়ে পুলিশ তাকে আদালতে প্রেরণ করলে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালত তাকে দিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।