গৌরীপুরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। বুধবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের নাম নাজমূল হোসেন (৬৫)। সে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের মাইজহাটি গ্রামের মৃত তালেব হোসেনের ছেলে। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নাজমুল হোসেনের সাথে মাইজহাটি গ্রামের বদরুল হাসান বাচ্চুর সাথে বিরোধ চলছিলো। দুজনের বিরোধের জের ধরে গৌরীপুর থানায় পাল্টাপাল্টি বেশ কয়েকটি মামলা হয়। গত ২৪ শে সেপ্টেম্বর নাজমূল ময়মনসিংহ কোর্টে একটি মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। পথিমধ্যে পাশ্ববর্তী ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শিমরাইল এলাকায় নাজমূলের গতিরোধ করে প্রতিপক্ষ বদরুল হাসানের লোকজন। এসময় প্রতিপক্ষ নাজমূলকে পিটিয়ে তার দু-পা ভেঙ্গে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। মুমূর্ষু অবস্থায় নাজমূলকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার নাজমূলের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে ঐদিন বিকালে জানাযা শেষে নাজমূলকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। এদিকে নাজমূল হোসেনকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় তাঁর ছেলে ইমরুল হোসেন বাদি হয়ে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয় মাইজহাটি গ্রামের আতিকুর রহমান, কামরুল হাসান হীরা, আবদুল মান্নান, হাবিবুল্লাহ, আনারুল, ইব্রাহীম, মনির হোসেন, তাজুল ইসলাম, এনামুল ও আবদুছ ছাত্তার সহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরে ৪/ ৫ জনকে। ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। মামলার বাদি ইমরুল হোসেন বলেন, বদরুল হাসানের সাথে বিরোধের জের ধরে তাঁর ক্যাডার বাহিনী আমার বাবাকে নির্মম ভাবে পিটিয়ে আহত করে দু পা ভেঙ্গে দেয় ও জখম করে। ওদের পিটুনিতেই আমার বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আমরা গ্রামে ঢুকতে পারছিলাম না। আজকে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাবার লাশ নিয়ে বাড়িতে আসি।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহাম্মদ বলেন, দু পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলছিলো। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বদরুল আলম খান বলেন, পূর্ব বিরোধের জের ধরে আদালতে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন নাজমূলকে পিটিয়ে আহত করে। পরে বুধবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি আরো জানান, মৃত্যুর খবর পেয়েই এ মামলায় খুনের ধারা সংযোজনের জন্য অনুমতি চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন জমা দেয়া হয়েছে।